
।। বিশেষ সংবাদদাতা ।।
ঢাকা, ২৫ ফেব্ৰুয়ারি (হি.স.) : পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় বাংলাদেশের পটুয়াখালি জেলায় সংখ্যালঘু হিন্দু ব্যবসায়ী নির্মল দাস (৫০)-কে শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মহম্মদ সুজন সিকদারের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত সুজন পটুয়াখালি-১ আসন থেকে নবনির্বাচিত সাংসদ তথা প্রাক্তন বিমানবাহিনী-প্রধান আলতাফ হোসেন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালি বাজারে এই ঘটনা ঘটেছে। আহত নির্মল দাসকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়েছেন। বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল বিভাগীয় শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে সুজন সিকদার তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। ২২ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বাড়ি থেকে তাঁর বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে সুজন সিকদার ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে আটকে পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাঁকে মারধর করা হয়।
এ ঘটনায় নির্মল দাস বাদী হয়ে সুজন সিকদার সহ তিনজনের বিরুদ্ধে মির্জাগঞ্জ থানায় লিখিত এফআইআর দায়ের করেছিলেন। তবে এখনও এফআইআর-এর ভিত্তিতে মামলা রুজু করেনি পুলিশ। উল্টো হিন্দু ব্যবসায়ীকে মাদক মামলায় দরিয়েট দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন থানার ওসি।
এদিকে স্থানীয় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের অভিযোগ, আলতাফ হোসেন চৌধুরীর স্ত্রী সুরাইয়া চৌধুরীর প্রভাবে পুলিশ মামলা নিচ্ছে না। স্থানীয়রা জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালি-১ আসন থেকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর অনুগামীরা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগও রয়েছে। আলতাফ হোসেন চৌধুরী ঘোর ভারত ও হিন্দু বিদ্বেষী হওয়ার সুবাদে তাঁর নেতা-কর্মীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের কাছে চাঁদাবাজি করছে। চাঁদা না দিলে নির্যাতন, এমন-কি দেশছাড়া করার হুমকি দিচ্ছেন।
মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মহম্মদ আবদুস সালাম বলেন, সুবিদখালি বাজারের এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি আমলে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখনও মামলা না নেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ আছে কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে তা তিনি এড়িয়ে যান। এদিকে এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুজন সিকদারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস