
নয়াদিল্লি, ১৯ মার্চ (হি.স.) : ব্যাঙ্ক ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে অনিল আম্বানি-কে টানা প্রায় আট ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করল কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো(সিবিআই)। একই মামলায় অথাম ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের পূর্ণকালীন পরিচালক অমিত ডাঙ্গিকেও প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে জেরা করা হয়েছে। সিবিআই জানিয়েছে, অনিল আম্বানিকে শুক্রবার আবারও হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।
সিবিআই সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সংস্থার সদর দফতরে হাজির হন অনিল আম্বানি। ২১ আগস্ট ২০২৫-এ দায়ের হওয়া এফআইআর-এর ভিত্তিতে এই তদন্ত চলছে। অভিযোগে রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস লিমিটেড, অনিল আম্বানি সহ একাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তি এবং কিছু সরকারি কর্মচারীকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগটি দায়ের করেছিল স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (এসবিআই), যা ১১টি ব্যাঙ্কের কনসোর্টিয়ামের প্রধান ব্যাঙ্ক।
ফরেনসিক অডিট রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে বিভিন্ন গ্রুপ সংস্থার মধ্যে জটিল লেনদেনের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া এবং অপব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার প্রায় ২,৯২৯.০৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। মোট ১৭টি সরকারি ব্যাঙ্কের মোট দেনার (এক্সপোজার) দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯,৬৯৪.৩৩ কোটি টাকা। এই মামলায় এর আগেই মুম্বইয়ে সংস্থার একাধিক দফতর ও অনিল আম্বানির বাসভবনে তল্লাশি চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করেছে সিবিআই।
এছাড়াও পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক, ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া, ইউনিয়ন ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া, ইউকো ব্যাংক, সেন্ট্রাল ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া, আইডিবিআই ব্যাংক এবং ব্যাংক অফ মহারাষ্ট্র-সহ একাধিক ব্যাঙ্ক পৃথকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছে।
অন্যদিকে, রিলায়েন্স কমার্শিয়াল ফাইন্যান্স লিমিটেড সংক্রান্ত আরও একটি মামলায় ৫৭.৪৭ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক জালিয়াতির অভিযোগে অমিত ডাঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এই মামলাটি ৬ ডিসেম্বর ২০২৫-এ দায়ের হয় এবং এতে একাধিক ব্যক্তি ও সংস্থাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সিবিআই জানিয়েছে, এই মামলায় ৩১টি ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান জড়িত, যার মধ্যে ১৩টি সরকারি ব্যাঙ্ক। মোট দেনার (এক্সপোজার) পরিমাণ প্রায় ৪,০৯৭ কোটি টাকা। শুধু ব্যাংক অফ মহারাষ্ট্র এবং পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের-এর যৌথ দেনা-ই (এক্সপোজার) ৩০২.৩৮ কোটি টাকা।
উল্লেখ্য, এই মামলাতেও মুম্বই ও পুনেতে তল্লাশি চালিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করেছে সিবিআই। তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের বয়ান এবং সংগৃহীত নথির মধ্যে মিল খুঁজে দেখছেন। দুটি ক্ষেত্রেই বড়সড় অর্থ আত্মসাৎ ও তছরুপের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত এখনও চলছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য