(লিড) পশ্চিম এশিয়া সংঘাতে অশান্ত জ্বালানি বাজার, ১১৯ ডলারের কাছাকাছি ব্রেন্ট ক্রুড
নয়াদিল্লি, ১৯ মার্চ (হি.স.) : পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সংঘাতের আবহে কাঁচা তেলের দাম লাফিয়ে বেড়ে ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেল প্রতি প্রায় ১১৯ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। এর ফলে বিশ্ব
(লিড) পশ্চিম এশিয়া সংঘাতে অশান্ত জ্বালানি বাজার, ১১৯ ডলারের কাছাকাছি ব্রেন্ট ক্রুড


নয়াদিল্লি, ১৯ মার্চ (হি.স.) : পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সংঘাতের আবহে কাঁচা তেলের দাম লাফিয়ে বেড়ে ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেল প্রতি প্রায় ১১৯ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতির উপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই কাঁচা তেলের দামে তীব্র উত্থান দেখা যায়। ব্রেন্ট ক্রুড প্রথমে ১১০.৮৬ ডলার প্রতি ব্যারেল দরে লেনদেন শুরু করে অল্প সময়ের মধ্যেই ১১৮.৭৩ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যায়। একইসঙ্গে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডও ৯৯.৭৬ ডলার থেকে বেড়ে ১০০ ডলারের গণ্ডি পেরিয়ে যায়। যদিও দিনের শেষে কিছুটা পতনের ইঙ্গিত মিলেছে। ভারতীয় সময় সন্ধ্যা নাগাদ ব্রেন্ট ক্রুড ৪.৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে ১১২.৫২ ডলার এবং ডব্লিউটিআই ৯৭.৪৭ ডলারের আশেপাশে লেনদেন করছিল।

এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত। ইজরায়েল ইরানের তেল ও গ্যাস অবকাঠামোয় হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাবে ইরান কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলিকে নিশানা করে। বিশেষ করে কাতারের রাস লাফান গ্যাস টার্মিনালে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে এলএনজি সরবরাহে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

এছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর হাবশান গ্যাস সুবিধা এবং বব তেল অঞ্চলে ড্রোন হামলার জেরে কার্যত কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়। কুয়েতের মিনা আল-আহমদি ও মিনা আবদুল্লা রিফাইনারিতেও ড্রোন হামলার ফলে আগুন লাগে। একইসঙ্গে সৌদি আরবের লাল সাগর উপকূলবর্তী ইয়ানবু শোধনাগারেও ড্রোন হামলার ঘটনা সামনে এসেছে, যার ফলে ওই শোধনাগার কার্যক্রমে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে কারণ ইরান ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত করেছে। বিশ্বের একটি বড় অংশের জ্বালানি পরিবহন এই পথের উপর নির্ভরশীল। ফলে এই রুটে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু দেশে জ্বালানির ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে একাধিক আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থা পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে নতুন তেল ও গ্যাসের চালান গ্রহণ আপাতত বন্ধ রেখেছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থায় বড়সড় ধাক্কা লেগেছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট আরও গভীর হতে পারে। কারণ, বিশ্বের মোট তেল উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এই অঞ্চলের দেশগুলি থেকে আসে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও বাড়িয়ে তুলছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande