
নয়াদিল্লি, ১৯ মার্চ (হি.স.): বৃহস্পতিবার বিশ্বজুড়ে থাকা বিনিয়োগকারীদের ভারতের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ক্ষেত্রে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একইসঙ্গে তিনি তাঁদের ভারতে নির্মাণ, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং সম্প্রসারণ করার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানান।
নয়াদিল্লির যশোভূমিতে আয়োজিত চার দিনব্যাপী ‘ভারত বিদ্যুৎ শিখর সম্মেলন’ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর লিখিত বার্তাটি পাঠ করেন কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ সচিব পঙ্কজ আগরওয়াল। সেই বার্তায় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হিসেবে ভারত তার জ্বালানি যাত্রার এক নির্ণায়ক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি বিশ্ব সম্প্রদায়কে ভারতে নির্মাণ, উদ্ভাবন ও বিনিয়োগ করার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমি আত্মবিশ্বাসী যে, এই শিখর সম্মেলন সার্থক সংলাপ এবং দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্বকে উৎসাহিত করবে, যা ভারতের প্রবৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।” তিনি আরও জানান যে, এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য হলো সমগ্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাকে এক মঞ্চে নিয়ে আসা, যাতে সহযোগিতার মাধ্যমে ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা যায়।
ভারতের অগ্রগতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, অ-জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশের বেশি সক্ষমতা ইতিমধ্যেই অর্জন করা গিয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াট উৎপাদনের স্পষ্ট লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। ‘ওয়ান সান, ওয়ান ওয়ার্ল্ড, ওয়ান গ্রিড’-এর মতো উদ্যোগগুলি ভারতের বিশ্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় আরও বলেন যে, ‘শান্তি আইন ২০২৫’ পারমাণবিক শক্তির ক্ষেত্রে নতুন সুযোগের দরজা খুলে দিয়েছে। পাশাপাশি ‘পিএম সূর্য ঘর মুফ্ত বিজলি যোজনা’ বিকেন্দ্রীভূত উৎপাদন ও টেকসই ব্যবহারের প্রসার ঘটাচ্ছে। বণ্টন ব্যবস্থার সংস্কার ও দক্ষতা বৃদ্ধির ফলে ভারতের জ্বালানি ক্ষেত্র এখন বিনিয়োগের জন্য এক আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, যশোভূমিতে শুরু হওয়া এই সম্মেলন আগামী ২২ মার্চ পর্যন্ত চলবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি