
অযোধ্যা, ১৯ মার্চ ( হি. স.) : চৈত্র নবরাত্রির প্রথম দিন বৃহস্পতিবার, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু প্রভু শ্রীরামের নগরী অযোধ্যার শ্রীরাম জন্মভূমি মন্দিরে সনাতন নব সংবৎসর উপলক্ষে ‘শ্রীরাম যন্ত্র’ স্থাপন করলেন। শ্রীরাম জন্মভূমি মন্দিরের দ্বিতীয় তলের গর্ভগৃহে অভিজিৎ মুহূর্তে বৈদিক আচার্যরা মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে বিধিবত পূজা-অর্চনা করে এই যন্ত্রটি স্থাপন করেন। বিমানবন্দর থেকে মন্দির পর্যন্ত অযোধ্যাবাসী রাষ্ট্রপতি মুর্মুকে এক বর্ণাঢ্য ও রাজকীয় সংবর্ধনা জানান।বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি মুর্মু অযোধ্যায় পৌঁছালে মহর্ষি বাল্মীকি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেল এবং মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ তাঁকে পুষ্পস্তবক দিয়ে স্বাগত জানান। এই সময় উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য এবং ব্রজেশ পাঠকও উপস্থিত ছিলেন। অযোধ্যার মেয়র মহন্ত গিরীশ পতি ত্রিপাঠী রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর হাতে ‘নগরের চাবি’ তুলে দেন। এই সম্মানটি নগরের পক্ষ থেকে কোনও অতিথিকে দেওয়া সর্বোচ্চ প্রতীকী সম্মান বলে গণ্য করা হয়। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এই নিয়ে দ্বিতীয়বার অযোধ্যায় এলেন।বিমানবন্দর থেকে রাষ্ট্রপতি যখন শ্রীরাম জন্মভূমি মন্দিরের উদ্দেশে রওনা হন, তখন সারা পথ ধরে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। রাস্তার দুই ধারে প্রায় ২০টি সাংস্কৃতিক মঞ্চ সাজানো হয়েছিল, যেখানে প্রায় ২৫০ জন শিল্পী রামায়ণের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন পরিবেশনার মাধ্যমে চারপাশ ভক্তিপূর্ণ করে তোলেন। ভারতীয় পোশাকে সজ্জিত শিল্পীরা স্বাগত সঙ্গীত, ভজন, ভোজপুরি লোকগীতি ও লোকনৃত্য সহ ভারতীয় সংস্কৃতির নানা অনুষ্ঠান পরিবেশন করে সকলের মন জয় করে নেন। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে অযোধ্যাবাসী পুষ্পবৃষ্টি করে এবং জয়ধ্বনি দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। রাষ্ট্রপতিও হাত নেড়ে সকলের অভিবাদন গ্রহণ করেন। এই উপলক্ষে রামলীলার অংশবিশেষ, সুসজ্জিত ঝাঁকি, ঢোল, শঙ্খধ্বনি, বেদপাঠ এবং ভজন-কীর্তনের মতো ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনার মাধ্যমে অযোধ্যার সমৃদ্ধ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক ঝলক ফুটে ওঠে।শ্রীরাম মন্দিরে পৌঁছে রাষ্ট্রপতি মুর্মু সর্বপ্রথম প্রভু শ্রীরামলালার দর্শন করেন এবং পূজা ও আরতি সারেন। এরপর তিনি ‘শ্রীরাম যন্ত্র’ স্থাপনের বিধিসম্মত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। সম্পূর্ণ শাস্ত্রীয় বিধি মেনে ‘শ্রীরাম যন্ত্র’ স্থাপনের মধ্য দিয়ে শ্রীরাম জন্মভূমি মন্দির নির্মাণ এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হল। যন্ত্রটি স্থাপন হওয়ার সাথে সাথেই মন্দির চত্বর প্রভু শ্রীরামের জয়ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। রাষ্ট্রপতি শ্রীরাম মন্দির চত্বরটি ঘুরে দেখেন এবং মন্দিরের দেওয়ালে খোদাই করা কারুকাজ ও আকৃতিগুলি মনোযোগ সহকারে পর্যবেক্ষণ করেন। এই যন্ত্র স্থাপনের সময় রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেল, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, কেরল থেকে আসা মা অমৃতানন্দময়ী, শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায় এবং অন্যান্য ট্রাস্টি ও সদস্য–সহ সাধু-সন্ত এবং দেশ-বিদেশ থেকে আসা সাত হাজারেরও বেশি বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।উল্লেখ্য, এই ‘শ্রীরাম যন্ত্র’টি দুই বছর আগে জগদগুরু শঙ্করাচার্য বিজয়েন্দ্র সরস্বতী মহারাজ একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে অযোধ্যায় পাঠিয়েছিলেন। বৈদিক গণিত এবং জ্যামিতিক আকৃতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই যন্ত্রটিকে দেবতাদের নিবাস বলে মনে করা হয়, যা ইতিবাচক শক্তিকে আকর্ষণ করার ক্ষমতা রাখে। দক্ষিণ ভারত, কাশী ও অযোধ্যার আচার্যদের দ্বারা মন্দিরে এই শ্রীরাম যন্ত্রের জন্য নয় দিনের বৈদিক অনুষ্ঠান আগেই শুরু হয়ে গিয়েছিল।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি