
তেহরান/তেল আবিব, ২০ মার্চ (হি.স.): আমেরিকা-ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলা সংঘাত ২১-তম দিনে আরও তীব্র আকার নিল। এই পরিস্থিতিতে ইরান দাবি করেছে, তারা মার্কিন অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে। পাশাপাশি ইজরায়েলের তেল আবিবে একটি তেল শোধনাগারে বোমাবর্ষণ চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস ( আইআরজিসি) একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে এফ-৩৫-এ হামলার দাবি করা হয়েছে। যদিও এই দাবির সত্যতা যাচাই হয়নি। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানকে মিশনের সময় জরুরি অবতরণ করতে হয়েছে। বিমানের পাইলট নিরাপদ রয়েছেন এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, এফ-৩৫ বিশ্বের অন্যতম উন্নত যুদ্ধবিমান, যার মূল্য ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। তবে মার্কিন প্রশাসন সরাসরি ইরানি হামলার কথা স্বীকার করেনি।
এদিকে ইরান জানিয়েছে, ইজরায়েলের আক্রমণের জবাব হিসেবে তেল আবিবের একটি তেল শোধনাগারে বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে জ্বালানি ক্ষেত্রেও। কাতার এনার্জি জানিয়েছে, ইরানি হামলার জেরে তাদের এলএনজি রফতানির প্রায় ১৭ শতাংশ ব্যাহত হয়েছে, যার ফলে বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, এই যুদ্ধে ইজরায়েল এগিয়ে রয়েছে এবং ইরান ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে। একইসঙ্গে হিজবুল্লাহ উত্তর ইজরায়েলের একাধিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে।
পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক মহল যদি দ্রুত হস্তক্ষেপ না করে, তাহলে এই সংঘাত বৃহত্তর আঞ্চলিক সংকটের রূপ নিতে পারে।
এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রেসিডেন্ট মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে ফোনে কথা হয়েছে। সেখানে আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও বিশ্ব শান্তির ওপর তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়।
এই আবহে ফ্রান্সের বিদেশমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারো শুক্রবার ইজরায়েল সফরে যাচ্ছেন। তিনি ইজরায়েলের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, মানবিক সাহায্য এবং উত্তেজনা প্রশমনের বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য