( রাউন্ড আপ) দেশজুড়ে খুশির ঈদ: রেড রোডে সম্প্রীতির বার্তা মমতা-অভিষেকের, আরামবাগে জনসংযোগে যুযুধান প্রার্থীরা
নয়াদিল্লি ও কলকাতা, ২১ মার্চ (হি.স.): দীর্ঘ এক মাসব্যাপী রমজানের কৃচ্ছ্রসাধনের পর শনিবার সারা দেশজুড়ে ধর্মীয় মর্যাদায় পালিত হলো খুশির ঈদ। এদিন সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ঈদগাহ ও মসজিদগুলোতে ভিড় জমান ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা। নামাজ পাঠের পর একে-অ
সম্প্রীতির বার্তা মমতা-অভিষেকের


নয়াদিল্লি ও কলকাতা, ২১ মার্চ (হি.স.): দীর্ঘ এক মাসব্যাপী রমজানের কৃচ্ছ্রসাধনের পর শনিবার সারা দেশজুড়ে ধর্মীয় মর্যাদায় পালিত হলো খুশির ঈদ। এদিন সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ঈদগাহ ও মসজিদগুলোতে ভিড় জমান ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা। নামাজ পাঠের পর একে-অপরকে আলিঙ্গন করে ভ্রাতৃত্বের উৎসবে শামিল হন আবালবৃদ্ধবনিতা।

দিল্লির ঐতিহাসিক জামা মসজিদে এদিন সকালে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করেন। একই ছবি ধরা পড়েছে মুম্বইয়ের মাহিম মসজিদেও। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও মধ্যপ্রদেশ, তামিলনাড়ুসহ বিভিন্ন রাজ্যে চিরাচরিত প্রথা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদ পালিত হয়েছে। ছোট থেকে বড়—সবাই মেতে ওঠেন এই আনন্দের উৎসবে।

প্রতি বছরের মতো এবারও কলকাতার রেড রোডে ঈদের মূল অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মন্ত্রী জাভেদ আহমেদ খান। উপস্থিত জনতাকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বৈচিত্র্যের মধ্যে একতাই আমাদের পথচলার মূলমন্ত্র। বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতি আমাদের সৌভ্রাতৃত্বকে অটুট রেখেছে। এদিন কলিন লেন, রিপন স্ট্রিট ও বেক বাগান এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে তিনি আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন। পাশাপাশি, বাংলার সম্প্রীতি নষ্ট করতে উদ্যত ‘অপশক্তি’র বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান জানান তিনি।

একই সুর শোনা যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলাতেও। মানবতার ডাক দিয়ে তিনি বলেন, ভাইয়ে-ভাইয়ে লড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু বাংলার ভ্রাতৃত্ব অটুট থাকবে। যে চাঁদ দেখে ঈদ পালিত হয়, সেই চাঁদ দেখেই করবা চৌথের ব্রত খোলা হয়। আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকতে হবে।

এদিকে ঈদের উৎসবের আবহেও স্পষ্ট হয়ে উঠল নির্বাচনী উত্তাপ। হুগলির আরামবাগে এদিন ঈদের নামাজ শেষে সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগে অংশ নেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মিতা বাগ এবং সিপিআইএম প্রার্থী বীথিকা পণ্ডিত। বীথিকা পণ্ডিত যখন সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা দেন, তখন মিতা বাগ তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক সুর চড়িয়ে বিরোধীদের কটাক্ষ করেন। ভোটের মুখে এই উৎসবের মঞ্চকেও প্রার্থীরা জনসংযোগের বড় মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করলেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

শনিবার ইব্রাহিম মোল্লার দলত্যাগের পর ভাঙড়ের ভগবানপুর ও সংলগ্ন এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। তৃণমূল ছেড়ে আসা কর্মীদের একাংশ দাবি করেছেন, তাঁরা দীর্ঘকাল বঞ্চিত ছিলেন। অন্যদিকে, জয়নগরে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির জেলা সভাপতি সহিদুল লস্কর জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনে আরও বেশ কিছু পঞ্চায়েত স্তরের প্রতিনিধি তাঁদের দলে যোগ দিতে পারেন। এর ফলে ক্যানিং ও জয়নগর মহকুমায় নির্বাচনী সমীকরণ বদলের সম্ভাবনা দেখছে রাজনৈতিক মহল।

কোচবিহারে খোকন মিঞার দলবদলের রেশ কাটতে না কাটতেই দিনহাটা ও তুফানগঞ্জ এলাকায় রাজনৈতিক সংঘাতের খবর পাওয়া গিয়েছে। তৃণমূলের একাংশের দাবি, খোকন মিঞার প্রস্থান দলে কোনো প্রভাব ফেলবে না। তবে বিজেপির জেলা নেতৃত্ব এই ফাটলকে কাজে লাগিয়ে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে মরিয়া। এদিকে, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ির চা-বলয় এলাকায় ঈদের দিন শ্রমিকদের সঙ্গে জনসংযোগ সারেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা।

নদীয়ার শান্তিপুর ও রানাঘাট এলাকায় এদিন ঈদের নামাজের পর সিপিআইএম প্রার্থী সৌমেন মাহাতোকে নিবিড় জনসংযোগ করতে দেখা গিয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে তিনি ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল কর্মসংস্থান এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যাগুলো তুলে ধরা। অন্যদিকে, কৃষ্ণনগর এলাকায় তৃণমূল ও বিজেপি প্রার্থীরাও স্থানীয় ঈদগাহগুলোতে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande