
- দেশের বিকাশে সামর্থ্য অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিককে অবদান রাখার আহ্বান আরএসএস-এর সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয়-এর
গুয়াহাটি, ২২ মাৰ্চ (হি.স.) : ব্যক্তি নিৰ্মাণের মাধ্যমে রাষ্ট্র নির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে সংঘ কাজ করে আসছে। প্রত্যেক নাগরিকের উচিত নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা। আমরা সকলেই ‘সনাতনী’। সনাতনের মানে চিরন্তন হলেও তা সময়ের সঙ্গে নতুনত্ব গ্রহণ করে। আমাদের আধুনিক হওয়া জরুরি, তবে পাশ্চাত্য অনুকরণ করাই আধুনিকতার একমাত্র মানদণ্ড নয়। গুয়াহাটিতে জাতীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী ও গবেষকদের নিয়ে আয়োজিত যুব সম্মেলনে প্ৰধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য পেশ করছিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর সরকার্যবাহ (সাধারণ সম্পাদক) দত্তাত্রেয় হোসবলে।
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-এর শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষ্যে আজ শনিবার আইআইটি গুয়াহাটি-তে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের গুয়াহাটি মহানগরের উদ্যোগে বিভিন্ন জাতীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী ও গবেষকদের নিয়ে যুব সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। গুয়াহাটি মহানগরের কার্যবাহ ডা. ধীরেন দাস পানিকারের পরিচালনায় সম্মেলনের শুভারম্ভ হয় ‘ভারতমাতা’-র প্রতিকৃতিতে পুষ্পাঞ্জলির মাধ্যমে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী ও গবেষকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আরএসএস-এর সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসবলে সংঘের শতবর্ষের যাত্রাপথ এবং আদর্শের ওপর বিস্তারিত বক্তব্য পেশ করেন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিভক্ত ভারতীয় সমাজকে সংগঠিত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সংঘ কেবল একটি সংগঠন নয়, এটি একটি আন্দোলন ও একটি চিন্তাধারা।
হোসবলে বলেন, সংঘ সবসময় দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করে এসেছে এবং মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রাম মনোহর লোহিয়ার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, যেমন ভগবান রাম উত্তর ও দক্ষিণ ভারতকে একত্রিত করার চেষ্টা করেছিলেন, তেমনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পূর্ব থেকে পশ্চিম ভারতকে একত্রিত করার চেষ্টা করেছিলেন। পাশাপাশি, শিব তত্ত্ব সমগ্র ভারতকে ঐক্যবদ্ধ করেছে।
উত্তরপূর্ব ভারতের উদাহরণ দিয়ে সরকার্যবাহ বলেন, অসম আন্দোলনের সময় বিদেশি বিতাড়নের প্রশ্নে সংঘ সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল। এখন সত্যের ভিত্তিতে ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক ন্যারেটিভ গড়ার সময় এসেছে, বলেন তিনি।
দত্তাত্রেয় হোসবলের বক্তব্যের পর একটি প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। যুব সম্মেলনে আইআইটি গুয়াহাটি, ন্যাশনাল ল ইউনিভার্সিটি গুয়াহাটি, এইমস গুয়াহাটি, আইআইআইটি গুয়াহাটি, নাইপার গুয়াহাটি এবং গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শতাধিক গবেষণারত ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহণ করেন।
‘বন্দে মাতরম্’ রাষ্ট্রগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানমঞ্চে সরকার্যবাহের সঙ্গে ছিলেন সংঘের অসম ক্ষেত্রের সংঘচালক ডা. উমেশ চক্রবর্তী এবং গুয়াহাটি মহানগরের সংঘচালক গুরুপ্রসাদ মেধি।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস