
নয়াদিল্লি, ২২ মার্চ (হি.স.) : ডেটা সুরক্ষা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে গুরুত্ব দিয়ে দুটি স্বদেশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক অ্যাপ ‘হাইপড সংলাপিনী’ এবং ‘জেনজেড কি-বোর্ড’ উদ্বোধন করা হল। রবিবার রাজধানীর ড. আম্বেদকর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই অ্যাপগুলির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন অনুবাদিনী এআই-এর চেয়ারম্যান ড. অনিল সহস্রবুদ্ধে ও সিইও ড. বুদ্ধ চন্দ্রশেখর।
অনুষ্ঠানে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, উদ্যোগপতি ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে ড. বুদ্ধ চন্দ্রশেখর বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে ডেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হলেও তা অপব্যবহারের বড় ঝুঁকিও তৈরি করেছে। বহু আন্তর্জাতিক অ্যাপ ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়াই তথ্য সংগ্রহ করে, যা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা সংকটের কারণ হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে নিরাপদ ও স্বদেশি প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই দুই অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, ‘জেনজেড কি-বোর্ড’ উচ্চগতির পাশাপাশি অত্যন্ত নিরাপদ এবং ব্যবহার-বান্ধব। এতে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন, সিম ও ডিভাইস বাউন্ডিং-এর মতো আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, যা ব্যবহারকারীর পরিচয় সুরক্ষিত রাখে এবং সাইবার প্রতারণা রোধে সহায়ক। এছাড়া এই প্ল্যাটফর্ম প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারীর লোড সামলাতে সক্ষম এবং ব্যবহারকারীদের টাইপিং সময়ও কমায়।
ড. চন্দ্রশেখর জানান, এই অ্যাপগুলি ২২টি ভারতীয় ভাষা সহ একাধিক আন্তর্জাতিক ভাষায় যোগাযোগের সুযোগ দেবে, যা ভাষাগত বাধা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ব্যবহৃত বিদেশি প্ল্যাটফর্মগুলির তুলনায় এই স্বদেশি অ্যাপগুলি আরও নিরাপদ ও কার্যকর বিকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
অন্যদিকে ড. অনিল সহস্রবুদ্ধে বলেন, অনুবাদিনী প্রকল্প ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে শুরু হলেও নানা প্রযুক্তিগত ও কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাঁর কথায়, দেশের অধিকাংশ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বিদেশি হওয়ায় ব্যবহারকারীদের তথ্য দেশের বাইরে চলে যায়, যা ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে ডেটা তেল বা সোনার মতোই মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়েছে। তাই দেশের মধ্যেই তথ্য সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই অ্যাপগুলির উন্নয়ন করা হয়েছে। এই প্রকল্পে তরুণ প্রজন্মের বড় ভূমিকা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ড. সহস্রবুদ্ধে আরও জানান, এই অ্যাপগুলি বিশেষভাবে নতুন প্রজন্ম, মহিলা ও প্রবীণদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। কারণ ডিজিটাল জগতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে থাকেন এই শ্রেণির মানুষ।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভিন্ন ভাষাভাষী মানুষও সহজে যোগাযোগ করতে পারবেন—যেমন একজন হিন্দিভাষী ব্যক্তি সহজেই তামিলভাষীর সঙ্গে কথা বলতে পারবেন স্বয়ংক্রিয় অনুবাদের মাধ্যমে।
উল্লেখ্য, প্রায় দেড় বছরের প্রচেষ্টায় তৈরি এই স্বদেশি এআই অ্যাপগুলি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য