সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নৈতিক মূল্যবোধের ওপর নির্ভর করে দেশের অগ্রগতি, শিলঙে বলেছেন আরএসএস-এর সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয়
‘সরাসরি সম্পৃক্ততা এবং অভিজ্ঞতা অর্জনই আরএসএস-কে বোঝার সর্বোত্তম উপায়’ শিলং, ২২ মাৰ্চ (হি.স.) : দেশের অগ্রগতি সম্মিলিত সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক মূল্যবোধের ওপর নির্ভর করে, শিলঙে প্রবুদ্ধ নাগরিক সম্মেলনে বলেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-
শিলঙে প্রবুদ্ধ নাগরিক সম্মেলনে আরএসএস-এর সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসবলে


সম্মেলনমঞ্চে বিশিষ্টজনের সঙ্গে সরকার্যবাহ


‘সরাসরি সম্পৃক্ততা এবং অভিজ্ঞতা অর্জনই আরএসএস-কে বোঝার সর্বোত্তম উপায়’

শিলং, ২২ মাৰ্চ (হি.স.) : দেশের অগ্রগতি সম্মিলিত সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক মূল্যবোধের ওপর নির্ভর করে, শিলঙে প্রবুদ্ধ নাগরিক সম্মেলনে বলেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর সরকার্যবাহ (সাধারণ সম্পাদক) দত্তাত্রেয় হোসবলে।

ম্যারিয়ট শিলং প্রেক্ষাগৃহে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-এর শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে সংগঠনের মেঘালয় প্ৰান্ত এক প্ৰবুদ্ধ নাগরিক সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। সম্মেলনের উদ্দেশ্য সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বাৰ্তালাপ এবং মতবিনিময়। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন আরএসএস-এর সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসবলে।

মেঘালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত প্রবুদ্ধ নাগরিক সম্মেলনে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে হোসবলে শিলংয়ের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা স্মরণ করে বলেন, স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু-র মতো মহান জাতীয় ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে এই শহরের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি এই অনুষ্ঠানকে সংগঠনের শতবর্ষ উপলক্ষ্যে তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। ১৯২৫ সালে নাগপুরে ডা. কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের হাতে প্রতিষ্ঠিত আরএসএস-এর যাত্রাপথের কথা তুলে ধরে বলেন, একটি মাত্র ‘শাখা’ থেকে শুরু হয়ে আজ সংগঠনটি দেশজুড়ে প্রায় ৮৫ হাজার দৈনিক শাখায় বিস্তৃত হয়েছে।

সরকার্যবাহ বলেন, ডা. হেডগেওয়ার ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের বিভিন্ন ধারার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন। তাঁর মূল প্রশ্ন ছিল, এত সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক সভ্যতা থাকা সত্ত্বেও ভারত কেন তার স্বাধীনতা হারাল। তিনি লক্ষ্য করেন, সংগঠিত বিদেশি শক্তিগুলি একটি সামাজিকভাবে বিভক্ত সমাজের ওপর শাসন করেছে। এই উপলব্ধি থেকেই সামাজিক সংগঠন ও জাতীয় জাগরণের প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে। যার ফলস্বরূপ আরএসএস-এর প্রতিষ্ঠা।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আরএসএস সমাজে কেবলমাত্ৰ একটি সংগঠন হিসেবে নয়, সমগ্র সমাজকে সংগঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে।’ ভারতের সভ্যতাগত চেতনাকে তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় একটি যৌথ ঐতিহ্যের প্রতিফলন, যা ব্যক্তিগত চরিত্র ও জাতীয় দায়িত্ব উভয়কেই গুরুত্ব দেয়। ভারতের অন্তর্ভুক্তিমূলক ঐতিহ্যের উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করে বলেন, পার্শি ও ইহুদি সম্প্রদায়ের মতো নিপীড়িত জনগোষ্ঠীও এখানে আশ্রয় পেয়েছে। তিনি বলেন, ভারতের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করে না, খেলাধুলায় জয় বা চন্দ্রযান-২ উৎক্ষেপণের মতো মুহূর্তে এই ঐক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আরএসএস-এর প্রচেষ্টা হলো ব্যক্তিগত চরিত্র গঠনের মাধ্যমে সংগঠিত সামাজিক কাজের দ্বারা এই ঐক্যকে স্থায়ী করে তোলা।

হোসবলে ব্যাখ্যা করে বলেন, বিভিন্ন পেশা ও সামাজিক ক্ষেত্রে নিয়োজিত স্বয়ংসেবকদের মাধ্যমে সংগঠনটি সমাজকে শক্তিশালী করার কাজ করছে এবং সামাজিক পরিবর্তনের সূচনা ব্যক্তি, পরিবার ও নৈতিক আচরণ থেকে হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘ধর্ম’ বলতে কেবল আচার-অনুষ্ঠান নয়, নৈতিক দায়িত্বকে বোঝায়। আরএসএস সম্পর্কে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশ আমাদের সবকিছু দেয়, আমরাও কিছু দিতে শিখি’ এই স্লোগানের ভিত্তিতে সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষ্যে সমাজের সঙ্গে বিস্তৃত যোগাযোগের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

হোসবলে দেশের অগ্রগতির জন্য ভারতের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ‘প্রণালীগত সংস্কার’ এবং ধারাবাহিক ‘সামাজিক সংস্কার’-এর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। এই প্রেক্ষিতে তিনি ‘পঞ্চ পরিবর্তন’-এর ধারণা তুলে ধরেন। ‘পঞ্চ পরিবর্তন’ হলো জাতি ও জনজাতির বিভাজন অতিক্রম করে সামাজিক সমরসতা, জাতীয় স্বত্ব ও স্বদেশী চেতনার দৃঢ়তা, পারিবারিক মূল্যবোধ সংরক্ষণ, দৈনন্দিন জীবনে পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ এবং নাগরিক কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতা।

আলোচনা পর্বে তিনি সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়েও মতামত দেন। ক্রমবর্ধমান মাদক সমস্যাকে তিনি জীবনধারা ও নিরাপত্তা, উভয়ের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং শক্তিশালী পারিবারিক মূল্যবোধের পাশাপাশি সীমান্তপারের মাদক পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। নারী ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতীয় ঐতিহ্যে মহিলাদের নেতৃত্বের স্বীকৃতি ছিল, তবে সমাজে বিদ্যমান কুসংস্কার ও ক্ষতিকর প্রথা দূর করাও জরুরি। তিনি আরও বলেন, যুবসমাজকে শক্তিশালী করতে পরিবারে প্রজন্মের মধ্যে সমন্বয় ও আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উত্তরপূর্ব ভারত প্রসঙ্গে এক জিজ্ঞাসার উত্তরে তিনি বলেন, যোগাযোগ ও সংলাপমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে আরএসএস সম্পর্কে অনেক ভুল ধারণা দূর হয়েছে, যদিও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভ্রান্ত প্রচার এখনও চলছে। তিনি পুনরায় স্পষ্ট করেন, আরএসএস ধর্মের ভিত্তিতে কোনও ধরনের বৈষম্য সমর্থন করে না এবং প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের সাংবিধানিক অধিকারকে সম্মান করে। একই সঙ্গে তিনি ধর্মীয় বৈচিত্র্যের মধ্যেও ভারতের অভিন্ন সভ্যতাগত সংস্কৃতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

বক্তব্যের শেষে সরকার্যবাহ হোসবলে বলেন, দেশের অগ্রগতি সম্মিলিত সামাজিক দায়িত্ব ও নৈতিক মূল্যবোধের ওপর নির্ভর করে। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, আরএসএস-কে বোঝার সর্বোত্তম উপায় হলো প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও অভিজ্ঞতা অর্জন।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande