(রাউন্ড আপ) আরজি করে মৃত্যুমিছিল ও পরিকাঠামো সংকট : লিফট দুর্ঘটনায় সিবিআই তদন্তের আর্জি, এবার শৌচাগারে পড়ে মৃত প্রৌঢ়
কলকাতা, ২৩ মার্চ (হি.স.): বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের। দেড় বছর আগের সেই নৃশংস ঘটনার স্মৃতি দগদগে থাকতেই, একের পর এক দুর্ঘটনা ও অব্যবস্থাপনার জেরে ফের কাঠগড়ায় এই সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। গত ১৯ মার্চ লিফট দু
আর জি কর


কলকাতা, ২৩ মার্চ (হি.স.): বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের। দেড় বছর আগের সেই নৃশংস ঘটনার স্মৃতি দগদগে থাকতেই, একের পর এক দুর্ঘটনা ও অব্যবস্থাপনার জেরে ফের কাঠগড়ায় এই সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। গত ১৯ মার্চ লিফট দুর্ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যুর পর এবার সোমবার ভোরে শৌচাগারে যাওয়ার পথে পড়ে গিয়ে এক প্রৌঢ়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হাসপাতাল চত্বরে। এই জোড়া মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের পরিষেবা ও নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ভোরে মৃত রোগীর নাম বিশ্বজিৎ সামন্ত (৬০)। তিনি উত্তর ২৪ পরগনার নিমতার বাসিন্দা ছিলেন। রবিবার রাত আড়াইটে নাগাদ তাঁকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আরজি করের এমারজেন্সি ট্রমা বিল্ডিংয়ে আনা হয়েছিল। কিন্তু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার বদলে হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার বলি হতে হলো তাঁকে।

অভিযোগ, জরুরি বিভাগের নিচতলার শৌচাগারটি অত্যন্ত অপরিষ্কার থাকায় বৃদ্ধকে অন্য শৌচাগারে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু হাসপাতালের লিফট বিকল থাকায় তাঁকে স্ট্রেচার বা হুইলচেয়ারে করে ওপরের তলায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। নিরুপায় হয়ে চিকিৎসকরা তাঁকে জরুরি বিভাগের বাইরের একটি শৌচাগারে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সেখানে যাওয়ার পথেই আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যান বিশ্বজিৎবাবু। ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় চিকিৎসার গাফিলতি না কি পরিকাঠামোগত ত্রুটি দায়ী— তা খতিয়ে দেখতে টালা থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

এদিকে, গত ১৯ মার্চ নাগেরবাজারের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লিফটের দরজায় আটকে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এবার কেন্দ্রীয় তদন্তের দাবি উঠল। এই ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে কলকাতা উচ্চ আদালতে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি। সিবিআই তদন্তের পাশাপাশি মৃত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়েছে।

মামলাকারী আদালতে উল্লেখ করেন যে, দেড় বছর আগে এক মহিলা চিকিৎসকের মৃত্যুর পর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্য সরকার ২০২৪-এর ৩১ অক্টোবরের মধ্যে পরিকাঠামো উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণে যে চরম খামতি রয়েছে, অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুই তার প্রমাণ। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা। উল্লেখ্য, এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্বেই ৩ জন লিফট অপারেটর ও ২ জন নিরাপত্তা কর্মীকে গ্রেফতার করেছে।

আরজি করের এই শোচনীয় অবস্থা নিয়ে সোমবার রাজ্য সরকারকে তীব্র ভাষায় বিঁধেছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। প্রৌঢ়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তিনি বলেন, “আরজি কর হাসপাতালে একজন ভদ্রলোক মারা গেছেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার বলে সব হাসপাতালই সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, কিন্তু আরজি করের অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে গেছে যে তা বলারবাইরে। সরকারের উচিত এই ব্যর্থতা স্বীকার করা।”

পাশাপাশি, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এআইএমআইএম এবং এজেইউপি -র জোট প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে প্রবীণ এই বাম নেতা জানান, জোট করা যেকোনো রাজনৈতিক দলের নিজস্ব স্বাধীনতা। তবে আরজি করের ঘটনায় রাজ্য জুড়ে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা নির্বাচনী আবহে শাসকদলকে বিড়ম্বনায় ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

লিফট দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে কলকাতা পুলিশের ফরেন্সিক দল ইতিমধ্যেই ট্রমা কেয়ার বিল্ডিং পরিদর্শন করেছে। যান্ত্রিক ত্রুটি না কি মানুষের গাফিলতি— তা শনাক্ত করার কাজ চলছে। অন্যদিকে, সোমবারের মৃত্যুর ঘটনায় মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে টালা থানার পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। হাসপাতালের অন্দরে একের পর এক এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দুই-ই বাড়ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande