
পুরী, ২৫ মার্চ (হি.স.): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ওড়িশায় ভোটের আগে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রত্নভান্ডারের অন্দরমহলের তালা খোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ওড়িশায় বিজেপির সরকার এসেছে। এ বার সেই প্রতিশ্রতি মাফিক আদালতের অনুমতি নিয়ে ও মন্দিরের রীতি মেনে মঙ্গলবার দুপুর ১টা ২৮ মিনিটে ওই রত্নভান্ডারের অন্দরমহলের দরজা খোলা হয়েছে। ওড়িশার পুরীর শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের ‘রত্ন ভাণ্ডার’-এর বহু প্রতীক্ষিত তালিকা তৈরির কাজ বুধবার থেকে শুরু বলে জানা গেছে; গত পাঁচ দশকের মধ্যে পবিত্র এই রত্নভাণ্ডারের এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা। গজপতি মহারাজ দিব্যসিংহ দেবের অনুমতি নিয়ে মন্দির কমিটি, জ্যোতিষী ও ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি চূড়ান্ত করেছে। জানা গিয়েছে, চৈত্র শুক্ল সপ্তমীতে যে শুভ লগ্নকে এই কাজের জন্য স্থির করা হয়েছে, তা শুরু হচ্ছে দুপুর ১২টা ৯ মিনিট থেকে ১টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে।
সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন জেলা শাসক ট্রেজারি থেকে রত্নভাণ্ডারের চাবি সংগ্রহ করবেন এবং দিনের কাজ শেষে তা ফেরত দেবেন। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনায় থাকবে দুটি দল। তিন সদস্যের একটি তত্ত্বাবধায়ক দল, যার নেতৃত্বে রয়েছেন এসজেটিএ-র প্রধান প্রশাসক অরবিন্দ পদী। পাশাপাশি ১০ সদস্যের একটি হ্যান্ডলিং টিমে থাকবেন রত্ন বিশেষজ্ঞ, স্বর্ণকার, ব্যাঙ্ক মনোনীত বিশেষজ্ঞ, মন্দিরের ঐতিহ্যবাহী সেবায়েত এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া-র আধিকারিকরা। পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফি করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৭৮ সালে শেষবার খোলা হয়েছিল রত্নভাণ্ডারের অন্দরমহলের দরজা। তারপর বেশ কয়েকবার রত্নভাণ্ডারের বহির্মহলের দরজা খুললেও অন্দরমহলে কেউ ঢোকেনি। হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে এবং মন্দিরের রীতি মেনে মঙ্গলবার অন্দরমহলের দরজা ফের খোলা হল। ১৯৭৮ সালে অন্দরমহলে যা যা পাওয়া গিয়েছিল, সেগুলির একটি তালিকা রয়েছে। সেই তালিকার সঙ্গে উদ্ধার সামগ্রী মিলিয়ে দেখা হবে। সেগুলির গুণগত মানও পরীক্ষা হবে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ