
বাঁকুড়া, ২৯ মার্চ (হি.স.): জঙ্গলমহলে সন্ত্রাসের দিন শেষ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছে তৃণমূল সরকার—রাইপুরের জনসভা থেকে এমনই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার রাইপুর সবুজ সংঘের মাঠে তৃণমূল প্রার্থী ঠাকুর মণি সোরেনের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “ক্ষমতায় আসার আগে জঙ্গলমহলে বন্দুকের নল নিয়ে ঘুরে বেড়াত জঙ্গিরা। জঙ্গলমহল ছিল সন্ত্রাসের ভূমি। আমরা সেই মাটিতে রক্ত নয়, শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছি। এখন মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারে।”
তিনি জঙ্গলমহলের অতীত পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বলেন, “আগে বেলপাহাড়ি-সহ বিভিন্ন এলাকায় চরম খাদ্য সঙ্কট ছিল। মানুষ পিঁপড়ের ডিম রান্না করে খেতে বাধ্য হতেন। এখন ৯০ শতাংশ মানুষ বিনামূল্যে রেশন পাচ্ছেন।”
উন্নয়নমূলক প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী একাধিক প্রতিশ্রুতিও দেন। তিনি বলেন, “এবার ক্ষমতায় এলে কাঁচা বাড়ি পাকা করে দেওয়া হবে। প্রত্যেকটি ঘরে জল পৌঁছে দেওয়া হবে। দুয়ারে সরকার হয়েছে, এবার দুয়ারে স্বাস্থ্য করা হবে।”
শিক্ষা ও পরিকাঠামোর উন্নয়ন নিয়েও তিনি জোর দেন। মমতা বলেন, “মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে বাঁকুড়ার ছেলে-মেয়েরা দারুণ ফল করছে। রাস্তাঘাট, সেতু নির্মাণ থেকে ক্ষুদ্র কুটির শিল্প—সব ক্ষেত্রেই উন্নয়ন হয়েছে।”
সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলির কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে দেড় হাজার টাকা করা হয়েছে। এসসি-এসটিদের জন্য ১৭০০ টাকা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প চালু হয়েছে, যেখানে মানুষের প্রকৃত সুবিধা মেলে।”
বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “বিজেপি ভোটের আগে অনেক প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু পরে তা পূরণ করে না। দেশে বেকারত্ব বেড়েছে, কিন্তু বাংলায় কমেছে। আমরা দারিদ্রসীমার নিচে থাকা লক্ষ লক্ষ মানুষকে উপরে তুলেছি।”
যুবদের জন্য ‘যুব সাথী’ প্রকল্প নিয়েও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যুব সাথী কোনও ভিক্ষা নয়, এটি পকেট মানি। মার্চ মাস থেকেই তা চালু করে দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও বন্ধ হবে না।”
সব মিলিয়ে জঙ্গলমহলের শান্তি ও উন্নয়নকে হাতিয়ার করেই ভোটের আগে জনসভা থেকে বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট