বাঁকুড়ায় শাসক–বিরোধী প্রার্থীদের সৌজন্যের নজির
বাঁকুড়া, ২৯ মার্চ (হি.স.): ভোটের উত্তপ্ত আবহের মধ্যেও বাঁকুড়ার সোনামুখীতে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি। শাসক ও বিরোধী শিবিরের প্রার্থীদের মধ্যে সৌজন্য বিনিময় ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। শনিবার রাতে সোনামুখী বিধানসভা কেন্দ্রের নিত্যানন্দপুর
বাঁকুড়ায় শাসক–বিরোধী প্রার্থীদের সৌজন্যের নজির


বাঁকুড়া, ২৯ মার্চ (হি.স.): ভোটের উত্তপ্ত আবহের মধ্যেও বাঁকুড়ার সোনামুখীতে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি। শাসক ও বিরোধী শিবিরের প্রার্থীদের মধ্যে সৌজন্য বিনিময় ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

শনিবার রাতে সোনামুখী বিধানসভা কেন্দ্রের নিত্যানন্দপুর বাজারে পৃথকভাবে প্রচারে যান বিজেপি প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক দিবাকর ঘরামি এবং তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ডাঃ কল্লোল সাহা। সেই সময় এলাকায় চলছিল হরিনাম সংকীর্তন, যেখানে কয়েক হাজার মানুষের সমাগম হয়। প্রচারের মাঝেই হঠাৎ মুখোমুখি হয়ে পড়েন দুই প্রার্থী।

বয়সে বড় হওয়ায় দিবাকর ঘরামি প্রণাম করতে এগোলে ডাঃ কল্লোল সাহা তাঁকে আলিঙ্গন করেন। এরপর দু’জনেই একে অপরের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এই দৃশ্য মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়, যা কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া ফেলে।

ডাঃ কল্লোল সাহা বলেন, “এখানে কোনও রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে এই সাক্ষাৎ সম্পূর্ণ সৌজন্যমূলক।” তিনি আরও জানান, প্রণাম করতে এলে তিনি স্নেহবশতই আলিঙ্গন করেন।

অন্যদিকে দিবাকর ঘরামি বলেন, “ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জায়গায় রাজনীতির কোনও স্থান নেই। একজন সম্মানীয় ব্যক্তি হিসেবে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছিলাম।” তিনি আরও বলেন, “বিজেপি সৌজন্যের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। হিংসা নয়, সৌজন্যই হোক রাজনীতির মূল বার্তা।”

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গলমহলের রানীবাঁধেও দেখা গিয়েছে এমনই এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। বাহা উৎসবে বিজেপি প্রার্থী ক্ষুদিরাম টুডু এবং তৃণমূল প্রার্থী তনুশ্রী হাঁসদা আদিবাসী সংস্কৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে একসঙ্গে নাচে-গানে অংশ নেন। কাঁধে মাদল নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মেতে ওঠেন দুই শিবিরের প্রার্থীরাই। এমনকি একসঙ্গে বসে খিচুড়ি প্রসাদ গ্রহণ করতেও দেখা যায় তাঁদের।

দুই প্রার্থীরই বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সংস্কৃতি ও সামাজিক ঐক্যের ক্ষেত্রে সকলের মিলেমিশে থাকা উচিত। বাঁকুড়ার এই ঘটনাগুলি তাই ভোটের আবহে সম্প্রীতির এক অন্য বার্তা তুলে ধরছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট




 

 rajesh pande