(রাউন্ড আপ) রবিবাসরীয় প্রচারে পৃথক জনসভা থেকে বিরোধী দলকে নিশানা মমতা–অভিষেকের
পুরুলিয়া/মুর্শিদাবাদ/উত্তর ২৪ পরগনা, ২৯ মার্চ (হি.স.): ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়িয়ে একাধিক জনসভা থেকে বিরোধী দলকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। রবিবার পুরুলিয়ার মানবাজারে ছিল তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা| আর
মমতা–অভিষেক


পুরুলিয়া/মুর্শিদাবাদ/উত্তর ২৪ পরগনা, ২৯ মার্চ (হি.স.): ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়িয়ে একাধিক জনসভা থেকে বিরোধী দলকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। রবিবার পুরুলিয়ার মানবাজারে ছিল তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা| আর মুর্শিদাবাদের নওদা ও উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতে ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভা|

পুরুলিয়ার মানবাজারে তৃণমূল প্রার্থী সন্ধ্যারানি টুডুর সমর্থনে সভা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কে প্রার্থী দেখতে হবে না, আমিই প্রার্থী। আমার উপর ভরসা রেখে ভোটটা দেবেন। তৃণমূলই সরকার গড়বে।” বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “বাংলা দখলের জন্য তোমরা এত হ্যাংলা কেন?” একইসঙ্গে বুথ পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, পুনর্নির্বাচনের ষড়যন্ত্র চলছে এবং তা ব্যর্থ করা হবে।

বিজেপিকে আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “বিজেপি এলে আপনারা মাছ-মাংস বা ডিম খেতে পারবেন না। বিজেপি একপেশে, তারা কোনও ধর্মে বিশ্বাস করে না। দাঙ্গা উস্কে দিয়ে তারা ক্ষমতায় আসে।” পাশাপাশি নোটবন্দি, আধার এবং সাধারণ মানুষের আর্থিক সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রকে নিশানা করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের একাধিক আইএএস ও আইপিএস অফিসারদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা। একইসঙ্গে জঙ্গলমহলে উন্নয়ন ও শান্তি ফিরিয়ে আনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

যুবসাথী প্রকল্প নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে মমতা বলেন, “যুবসাথী ভিক্ষা বা ভাতা নয়, এটা হাতখরচ। যাতে যুবক-যুবতীরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে।” তিনি আশ্বাস দেন, যাঁরা এখনও টাকা পাননি, তাঁদের সমস্যার সমাধান করা হবে।

অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের নওদায় অভিষেকের সভার আগে সাময়িক বিশৃঙ্খলার ঘটনা সামনে আসে। চেয়ার দখলকে কেন্দ্র করে দলীয় কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সভামঞ্চ থেকে এই প্রসঙ্গে কড়া বার্তা দেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায় । তিনি বলেন, “যদি কেউ ভাবেন বিশৃঙ্খলা করে দলকে চাপে রাখবেন, দল তাঁকে ক্ষমা করবে না। আমি ওয়ার্নিং দিয়ে যাচ্ছি।”

একই সভা থেকে বিজেপিকে আক্রমণ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিজেপিকে এক ইঞ্চি জমি দেওয়াও চলবে না। আমাদের ২২-০ করতে হবে।” নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন, উচ্চপদস্থ অফিসারদের বদলি করে অশান্তির পরিবেশ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে।

দলের মধ্যেই অন্তর্ঘাতের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “যে দলের জার্সি পরে আছেন, সেই দলের হয়েই খেলুন। অন্য দলের হয়ে খেলতে গেলে ভোটের পরে লাল কার্ড দেখতে হবে।”

উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির সভা থেকেও বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করেন অভিষেক। তিনি দাবি করেন, গত কয়েক বছরে সন্দেশখালিকে ঘিরে যে ‘কুৎসা’ ছড়ানো হয়েছে, ভোটের ফলেই তার জবাব মিলবে। তাঁর কথায়, “গদ্দার, বেইমান, বাংলা-বিরোধী পরিযায়ী নেতাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে এই মাটিতেই।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, একাধিক জনসভা থেকে তৃণমূল নেতৃত্বের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভোটের আগে রাজ্যে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হতে চলেছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande