
পাটনা, ১২ এপ্রিল (হি. স.) : বিহারের কাটিহার জেলার কোড়া ব্লকের বাসগড়া চকের কাছে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে শনিবার গভীর রাতে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
রবিবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সামাজিক মাধ্যমে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এই ঘটনাকে অত্যন্ত ‘বেদনাদায়ক’ বলে বর্ণনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে প্রত্যেক মৃতের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এই দুর্ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তিনি এই ঘটনায় অত্যন্ত মর্মাহত। তিনি অবিলম্বে মৃতদের পরিবারপিছু ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে অনুদান দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশে উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে তদারকি করছেন। বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদবও এই দুর্ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, হরদা থেকে পূর্ণিয়াগামী একটি বাস প্রথমে দুই বাইক আরোহীকে পিষে দেয় এবং তারপরে সামনে থেকে আসা একটি যাত্রীবোঝাই পিকআপ ভ্যানে সরাসরি ধাক্কা মারে। এই ঘটনায় ১০ জন মহিলা, ২ জন পুরুষ এবং ১টি শিশুসহ মোট ১৩ জনের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন পূর্ণিয়ার এবং ২ জন কাটিহারের বাসিন্দা।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—তলু সোরেন (৪৮), রাধিকা হাঁসদা (১৯), তেলমি দেবী (৪০), পাপ্পু হাঁসদা, তলপু সোরেন, তানা টুডু, বিটিকা মান্ডি, পাপ্পু দেবী, চিন্তামণি মাহাতো (৩৫), সদানন্দ মুর্মু, দুর্গা বাশকি (৬০), রঞ্জিতা হেমব্রম (৫৫)। অপর একজনের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি।
এই দুর্ঘটনায় ৩২ জনেরও বেশি যাত্রী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রাথমিক চিকিৎসার পর গুরুতর আহতদের পূর্ণিয়া জিএমসিএইচ-এ স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ইতবারি বাসুকি জানান, বাসের গতি অত্যন্ত বেশি ছিল এবং চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। বাসটি প্রথমে বড়হরা কোঠি থেকে ফেরা সদানন্দ মুর্মু ওরফে রাজেশ (৪০) ও তাঁর ছেলেকে পিষে দেয়। এরপরই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঝাড়খণ্ডের মেলা দেখে ফেরা পুণ্যার্থীবোঝাই পিকআপ ভ্যানটিতে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ছিল যে মৃতদেহগুলি রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল আহতদের চিকিৎসার দায়িত্বে রয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি