
ইসলামাবাদ, ১২ এপ্রিল ( হি. স.) : দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার গুরুতর আলোচনা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত কোনো রফাসূত্রে পৌঁছাতে পারল না আমেরিকা ও ইরান। রবিবার সকালে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক সংবাদিক সম্মেলনে আমেরিকার উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভেন্স এই ঘোষণা করেন। শনিবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই সরাসরি আলোচনা বা ইসলামাবাদ বার্তা-র ব্যর্থতাকে তিনি একটি ‘খারাপ খবর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
পাকিস্তানের ইংরেজি সংবাদপত্র ‘ডন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংবাদ সম্মেলনে ভেন্স বলেন, আমরা গত ২১ ঘণ্টা ধরে শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর আলোচনা করেছি। তবে দুর্ভাগ্যবশত আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, আমেরিকা তাদের লক্ষ্য ও শর্তাবলী ইরানের প্রতিনিধিদের কাছে পেশ করেছিল, কিন্তু ইরান সেই শর্তগুলি মেনে নিতে অস্বীকার করেছে। বিশেষ করে ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে বা সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম জোগাড় না করে—সেই বিষয়ে একটি দৃঢ় নিশ্চয়তা চেয়েছিল ওয়াশিংটন। কিন্তু তেহরান তাতে রাজি হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই উপ-রাষ্ট্রপতি ভেন্স পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের আতিথেয়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি জানান যে, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যকার দূরত্ব ঘোচাতে আন্তরিক চেষ্টা চালিয়েছে এবং চমৎকার কাজ করেছে।
অন্যদিকে, ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন যে, ইসলামাবাদে তাঁদের প্রতিনিধিদের জন্য দিনটি অত্যন্ত ব্যস্ততাপূর্ণ ছিল। এই দীর্ঘ সময়ে দুই পক্ষ একে অপরের সঙ্গে একাধিক নথি ও বার্তা বিনিময় করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে এই আলোচনায় প্রধানত হরমুজ প্রণালী, পারমাণবিক ইস্যু, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করার বিষয়গুলি গুরুত্ব পেয়েছে। দুই দেশের এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপ কমার সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি