
ঝাড়গ্রাম, ১৫ এপ্রিল (হি. স.): প্রথম দফার নির্বাচনের আগে ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর বিধানসভা কেন্দ্রে কুড়মি ভোটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক টানাপোড়েন চরমে পৌঁছেছে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী অজিত মাহাতোর সমর্থনে এলাকায় ছড়িয়ে পড়া কিছু বিশেষ পোস্টার ও লিফলেট ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কুড়মি সমাজকে একজোট রাখতে এবং বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে সরব হতে এই প্রচার কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
প্রস্তুত হওয়া ওই পোস্টার ও লিফলেটে বড় অক্ষরে লেখা হয়েছে— “যারা বিভাজন ছড়ায়, তারা উন্নয়নের শত্রু।” এর ঠিক নীচেই কড়া ভাষায় আহ্বান জানানো হয়েছে, “টাকার বিনিময়ে সমাজকে বিক্রি করে দেওয়ার কারিগরদের চিহ্নিত করুন।” পোস্টারের নীচের অংশে দুটি ছবি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। একটিতে তৃণমূল প্রার্থী অজিত মাহাতোকে ঘরের মধ্যে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে, অন্যটিতে জনৈক নেতার টেবিলের ওপর রাখা নোটের বান্ডিল নিয়ে নাড়াচাড়া করার দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে।
গোপীবল্লভপুর কেন্দ্রে প্রায় ৩১ শতাংশ কুড়মি ভোটার থাকায় এই সম্প্রদায়ই এখানে জয়-পরাজয়ের মূল চাবিকাঠি। বিজেপির প্রার্থী রাজেশ মাহাতো কুড়মি সামাজিক সংগঠন থেকে উঠে আসা পরিচিত মুখ হওয়ায় তাঁকে ঘিরে কুড়মি আবেগের পালে হাওয়া লাগানোর চেষ্টা করছে পদ্ম-শিবির। এর পাল্টা হিসেবেই তৃণমূল ‘উন্নয়ন বনাম বিভাজন’-এর তত্ত্ব খাঁড়া করতে চাইছে। উল্লেখ্য, বেশ কিছু কুড়মি সংগঠন ইতিমধ্যেই ‘নো ভোট টু তৃণমূল’ ডাক দিয়েছে, যা শাসক শিবিরের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই পোস্টার যুদ্ধ নিয়ে বুধবার তৃণমূল প্রার্থী অজিত মাহাতো বলেন, “বিজেপি বুঝে গিয়েছে তারা জিততে পারবে না, তাই জাতপাতের ভিত্তিতে বিভাজনের রাজনীতি করছে। আমরা মানুষকে কেবল সতর্ক করছি।” অন্যদিকে, পোস্টারে ব্যবহৃত বিতর্কিত ছবি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কুড়মি নেতার দাবি, এটি বহু পুরনো ছবি এবং ওই টাকা সংগঠনের তহবিলের। বিজেপি প্রার্থী রাজেশ মাহাতোর পাল্টা অভিযোগ, “তৃণমূলের পায়ের তলায় মাটি নেই, তাই পরাজয় নিশ্চিত জেনে চরিত্রহনন ও মিথ্যাচারের রাজনীতি শুরু করেছে।” নির্বাচনের ঠিক আগে কুড়মি ভোটব্যাঙ্ক কার দিকে ঝুঁকবে, তা নিয়েই এখন সরগরম জঙ্গলমহল।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো