
বাসন্তী, ১৮ এপ্রিল (হি. স.): দক্ষিণ ২৪ পরগণার বাসন্তী বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী নীলিমা মিস্ত্রী বিশালের নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব জেলা পরিষদের সভাধিপতি নীলিমা মিস্ত্রীর ওপর ভরসা রাখলেও, খোদ তৃণমূলেরই দুই নেতার নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে পড়া নিয়ে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। এই ঘটনায় তৃণমূল কর্মীদের একাংশ যেমন বিভ্রান্ত, তেমনই বিষয়টিকে শাসকদলের ‘ভোট লুটের কৌশল’ বলে তোপ দেগেছে বিজেপি।
এবারের নির্বাচনে বাসন্তীর বিদায়ী বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী শ্যামল মণ্ডলকে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। তাঁর পরিবর্তে গোসাবার বাসিন্দা নীলিমা মিস্ত্রীকে প্রার্থী করা হয়েছে। তবে নীলিমার বিরুদ্ধেই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন বাসন্তী পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ গৌরী নস্কর এবং আমঝাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি অসীম সরদার। তৃণমূলের এই জোড়া কাঁটায় সাধারণ ভোটার ও সমর্থকরা কিছুটা ধন্দে পড়েছেন। নিতাই সরদার বা মোকাব্বেল শেখের মতো সাধারণ তৃণমূল কর্মীদের প্রশ্ন, দলের ঘোষিত প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও কেন অন্য নেতারা ভোটে দাঁড়াচ্ছেন?
এই পরিস্থিতিকে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল বলতে নারাজ বিজেপি। তাঁদের দাবি, এটি পরিকল্পিত একটি কৌশল। বিজেপির জয়নগর সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র সঞ্জয় নায়েক বলেন, “এটা কোনও কোন্দল নয়, বরং ভোট লুটের একটি নীল নকশা। অবাধ ভোট হলে তৃণমূল হারবে জেনেই বুথ দখল করতে এবং বুথের ভিতরে বাড়তি এজেন্টের সুবিধা নিতে নির্দল প্রার্থী দাঁড় করানো হয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
পাল্টা যুক্তিতে বাসন্তীর তৃণমূল নেতা রাজা গাজী বলেন, “গণতান্ত্রিক দেশে যে কেউ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেই পারেন। জয়ের জন্য সব দলেরই নিজস্ব কিছু রণকৌশল থাকে। যাঁরা নির্দল হয়ে দাঁড়িয়েছেন, তাঁরাও শেষ পর্যন্ত তৃণমূলকেই ভোট দেবেন।” তবে বিজেপিকে ‘শিক্ষা’ দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, “রাজনীতি কীভাবে করতে হয়, তা বিজেপির ছোট-বড় সব নেতাদের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে শিখতে হবে।”
রাজা গাজীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, বিরোধীদের আশঙ্কা সত্যি করে নির্দল প্রার্থীদের সামনে রেখে শাসকদল কি সত্যিই কোনও গোপন ছক কষছে? যদিও নির্দল প্রার্থী হওয়া গৌরী নস্কর বা অসীম সরদার এই নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি। তাঁদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য, যা করেছেন তা দলের নির্দেশেই করেছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / পার্সতি সাহা