দেওয়াল লিখন কমছে, ফ্লেক্সে ছয়লাপ ভোটের হাওড়াতে চরম ব্যস্ততা মুদ্রণ শিল্পে
হাওড়া, ২২ এপ্রিল (হি. স.) : সময় বদলাচ্ছে, বদলাচ্ছে রাজনৈতিক প্রচারের ধরনও। এক সময় ভোটের বিজ্ঞাপন মানেই ছিল চুন-কাম আর রঙের কৌটো নিয়ে দেওয়াল লিখন। কিন্তু বর্তমানে সেই ঐতিহ্যের জায়গা কার্যত দখল করে নিয়েছে রঙিন পোস্টার, ব্যানার, হোর্ডিং ও ফ্লেক্স। সম
হাওড়াতে


হাওড়া, ২২ এপ্রিল (হি. স.) : সময় বদলাচ্ছে, বদলাচ্ছে রাজনৈতিক প্রচারের ধরনও। এক সময় ভোটের বিজ্ঞাপন মানেই ছিল চুন-কাম আর রঙের কৌটো নিয়ে দেওয়াল লিখন। কিন্তু বর্তমানে সেই ঐতিহ্যের জায়গা কার্যত দখল করে নিয়েছে রঙিন পোস্টার, ব্যানার, হোর্ডিং ও ফ্লেক্স। সময় কম এবং খরচ তুলনামূলক সাশ্রয়ী হওয়ায় ভোটের বাজারে এখন একচ্ছত্র রাজত্ব করছে ‘ফ্লেক্স সংস্কৃতি’। আর এই চাহিদার জোয়ারে হাওড়ার মুদ্রণ ও ফ্লেক্স তৈরির কারখানাগুলিতে এখন দম ফেলার ফুরসত নেই।

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই হাওড়ার শিল্পাঞ্চলে ব্যস্ততা তুঙ্গে পৌঁছেছে। রাজনৈতিক দলগুলির বিপুল অর্ডারের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন কারখানার কর্মীরা। কোথাও রাতভর চলছে প্রিন্টিং মেশিনের গর্জন, আবার কোথাও ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হয়ে যাচ্ছে ডেলিভারির তোড়জোড়। সালকিয়ার এক ফ্লেক্স ব্যবসায়ী সুদীপ সিনহার কথায়, “এবার দেওয়াল লেখার চেয়ে ফ্লেক্সের চাহিদা অনেক বেশি। উজ্জ্বল রঙের বড় ফ্লেক্স দ্রুত মানুষের নজর কাড়ে, তাই সব দলই এখন এই ডিজিটাল মাধ্যমের দিকেই ঝুঁকছে।”

বিভিন্ন কারখানায় দেখা যাচ্ছে, কর্মীরা দিনে গড়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা কাজ করছেন। রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সব দলের অর্ডারই এখানে সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। লাল, নীল, সবুজ বা গেরুয়া—মেশিনের রোলার থেকে সব রঙের প্রচারই সমান তালে বেরিয়ে আসছে। আরেক কারখানা মালিক সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “ভোটের আগে কাজের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম বা কংগ্রেস—সব দলের ব্যানারই আমাদের এখানে ছাপা হচ্ছে। সময়মতো ডেলিভারি দিতে আমরা রাত জেগে কাজ করছি।”

হাওড়া শহরের অলিগলি থেকে রাজপথ—সবত্রই এখন দেওয়ালের বদলে ঝলমলে ফ্লেক্স আর হোর্ডিংয়ের আধিক্য। প্রচারের ভাষা এবং মাধ্যম পাল্টালেও নির্বাচনী উন্মাদনার রঙে কোনো ঘাটতি নেই। গণতন্ত্রের এই উৎসব এখন হাওড়ায় আগের চেয়ে অনেক বেশি রঙিন এবং প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে উঠেছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত




 
 rajesh pande