
কলকাতা, ২৩ এপ্রিল (হি. স.): ভোট পর্ব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে। এদিন ভোট পর্ব মিটতেই একযোগে সাংবাদিক সম্মেলনে বিস্তারিত জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল এবং রাজ্য পুলিশের নোডাল অফিসার আনন্দ কুমার।প্রথমতঃ প্রথম দফার নির্বাচন শেষ হলো। এখনো সব জায়গায় শেষ হয়নি। এরপর সব বিসিআরসি এবং স্ট্রং রুমে চলে যাবে ইভিএম। ৯০% এর বেশি ভোট হয়েছে। গড় ভোট বাড়ল।দ্বিতীয়তঃ ভোটাররা নির্ভয় ভোট দিয়েছেন। ভোট দেওয়ার পর তাঁরা খুশি হয়েছেন। ঘটনা অনেক কম হয়েছে, সমস্ত রাজনৈতিক দল এবং স্টেক হোল্ডারদের ধন্যবাদ।তৃতীয়তঃ কোন ইন্সিডেন্ট হবে না সেটা বলেছিলাম বুথের ভিতর। এরিয়া ডমিনেশনের জন্য বড় গন্ডগোল ১০০ মিটারের মধ্যে হয়নি। আগেকার নির্বাচনে হুমকি আসত, কর্মীদের প্রভাবিত করার প্রশ্ন আসত, এবার সেটা হয়নি। প্রথম দফার নির্বাচনে এদিন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোট গ্রহণের কথা মোট ৪৪, ৩৭৬ বুথে। এর মধ্যেই ৩৯, ৫৪৮ বুথে ভোট সম্পূর্ণ। বাকি ৪, ৮৪৮ বুথে সন্ধ্যা ছয়টা পার হতেও ভোটদানের পর্ব চলতে থাকে। তাই একদিকে যেমন চূড়ান্ত ভোট শতাংশ এখন বলা যাবে না, তেমন ভোটদানের হার ও বাড়তে পারে।চতুর্থতঃ ইভিএম গরমের কারণে খারাপ হতে পারে। মেশিন খারাপ হলে অবশ্যই বদলে দেওয়া হয়েছে। ভোট আটকেছে বা অনেক টাইম লেগে গেছে— এমনটা হয়নি। সঙ্গত কারণেই যে ৪-৬ ঘণ্টা দেরি হয়, এবার সেই দেরি হয়নি।পঞ্চমতঃ ওয়েব কাস্টিং ১০০ শতাংশ ফুল প্রুফ ছিল। কোথায় ক্যামেরা বসানো হবে সেটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এর আগে দেখা গিয়েছিল লাইটের কানেকশন ছিল না বা ইলেকট্রিকের সমস্যা ছিল। যেখানে বিদ্যুৎ সমস্যা ছিল সেখানে জেনারেটর লাগিয়ে দিয়েছিলাম। যেখানে ইন্টারনেট নেই সেখানে প্রোটোকল করেছিলাম। সেখানে সিম বেসড ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতি ১৫ মিনিটে আমরা রিটার্নিং অফিসারকে খোঁজ নিয়েছি। সিম বেসড ক্যামেরা যেখানে ছিল সেখানে মাইক্রো অবজারভার ছিল।ষষ্ঠতঃ এবার কন্ট্রোল রুম অন্যরকম ছিল। আপনারা তা আরও ভালো করে জানেন। এবার বুথের ভিতর কারা ঢুকছেন, বাইরের-ভেতরের আলোর ব্যবস্থা ছিল। এখান থেকে বোঝা যাচ্ছিল। বুথের কাছে এরিয়া ডমিনেশন গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সেটা ভালোভাবে হয়েছে; সিএপিএফ-কে এজন্যই ধন্যবাদ।সপ্তমতঃ পিংলা থেকে রিপোর্ট কমিশনে পৌঁছালে তারপর খতিয়ে দেখার পর যদি কোন সুপারিশ আসে তাহলে তা খতিয়ে দেখা হবে। সব ক্যামেরা বন্দি রয়েছে। সে যাই হোক রিপোর্ট আসবে। তারপর সেখানে দেখা হবে ক্যামেরার ছবিতে কি কোন বিতর্ক আছে কিনা। খাবার দিতে এসে তারপর ওনারা চলে যাওয়ার পর কেউ ছাপ্পা দিয়েছে কিনা— মূলত এই নির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে এখন পর্যন্ত কোনও বুথে পুনরায় নির্বাচনের সম্ভাবনা নেই বলে স্পষ্টভাবেই এদিন জানানো হয়েছে।অষ্টমতঃ প্রার্থীরা সমস্ত ঘটনা ও অবস্থা বুঝেই সেখানে যেতে পারেন। প্রতিটি প্রার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে সুরক্ষা দিতেও পারে না নির্বাচন কমিশন সব জায়গায়। কিন্তু এটা ভবিষ্যতে দেখা হবে— এই প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাস থাকল।নবমতঃ ভোট দিতে গিয়ে মারা গেছে বলে এমন কোন খবর নেই। লাইন বা বুথের মধ্যে এমন কোনও ঘটনা এদিন ঘটেও নি— স্পষ্টভাবেই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।দশমতঃ প্রত্যেকটা কমপ্লেন টেক ওভার করেছি এবং ৪-৫ মিনিটের মধ্যেই তা সমাধানের চেষ্টা করেছি। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই পৌঁছাতে হয়েছে ঘটনাস্থলে। এবার এমন কোন ঘটনা হয়নি যে ঘটনা একদিকে হয়েছে আর গাড়ি অন্য দিকে চলে গেছে। এটা ওয়েবকাস্টিং-এর জন্য সম্ভব হয়েছে।উল্লেখ্য, প্রথম দফায় বুথ জ্যামের ঘটনা ঘটেনি। শহরের বুকে সরু একাধিক রাস্তা ও গলি রয়েছে। সেখানে গাড়ি পৌঁছালে জ্যাম হয়ে যায়। এবার সেগুলো ফাঁকা রাখা হয়েছিল। যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া হয়নি যাতে কিউ আর টি গাড়ি মুভ করতে পারে। সেই কারণে এবার বুথ জ্যামের ঘটনা ঘটেনি।প্রসঙ্গত কলকাতায় বহুতলের আবাসনেও বুথ। আমরাও প্রচার করব সাধারণ মানুষকে বলব তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করতে। আশা করি কলকাতায় ভোটদানের পরিমাণ বাড়বে।ইতিমধ্যেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ মাধ্যমেই এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আট দফায় যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি সেগুলো পালন করা হয়েছে যথাযথভাবেই। তাঁর অভিমত— মানুষ নির্ভয়ে এই পর্বে ভোট দিয়েছেন। দ্বিতীয় পর্বের সময় তা যেন সঠিকভাবেই বজায় থাকে সেটা দেখতেও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।এর সূত্র ধরেই আনন্দ কুমার আরও জানিয়েছেন যে, ৪১ গ্রেফতার হয়েছে বিভিন্ন স্থানে ভোটকেন্দ্রিক এদিনের ঘটনায়। এই প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল ৫৭০ জনকে প্রিভেনটিভ মেজারে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ৪১ জন ধৃতের মধ্যেই রয়েছে যথাক্রমে বীরভূম জেলার দুবরাজপুরে ৩ জন, কুমারগঞ্জে ৫ জন, সাঁইথিয়াতে ৪ জন এবং মুরারইয়ে ৪ জন। তাছাড়াও দুজন সিএপিএফ আহত হয়েছে দুবরাজপুর বিধানসভা কেন্দ্রে।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত