
কলকাতা, ২৪ এপ্রিল (হি. স.) : অ্যাডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ লাইফ সায়েন্স অ্যান্ড বায়ো-টেকনোলজির অন্তর্গত জীববিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো একটি বিশেষ জাতীয় সেমিনার। ‘সাঁওতালি জ্ঞান ও স্বাস্থ্যঃ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নীতি-দৃষ্টিকোণ’ শীর্ষক এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট গবেষক ও গুণীজনেরা। পশ্চিমবঙ্গ সাঁওতালি অ্যাকাডেমির পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই সেমিনারে সাঁওতালি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ব্যবস্থা কীভাবে আধুনিক স্বাস্থ্যচর্চায় নতুন দিশা দেখাতে পারে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
শুক্রবার আয়োজিত এই আলোচনা সভায় অধ্যাপক অমিত কুমার কিস্কু, ড. সায়ক গঙ্গোপাধ্যায়, ড. নেতাই টুডু, অম্পা কুমার হেমব্রম এবং ড. বিশ্বরূপ দে-সহ একাধিক বক্তা তাঁদের মূল্যবান বক্তব্য পেশ করেন। বক্তারা সাঁওতালি প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতির প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে জানান যে, দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই সুস্থতার ক্ষেত্রে এই প্রথাগত জ্ঞান অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। মূলত সম্প্রদায়ভিত্তিক এই চিকিৎসা বিদ্যাকে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের সঙ্গে কীভাবে সমন্বিত করা সম্ভব, সেটিই ছিল আলোচনার মূল বিষয়বস্তু।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য অধ্যাপক সমিত রায় এবং উপাচার্য অধ্যাপক সুরঞ্জন দাসের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে নীতিগত স্তরে সাঁওতালি জ্ঞানব্যবস্থার স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। অংশগ্রহণকারী গবেষক ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের মতে, প্রথাগত প্রাচীন জ্ঞান ও আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে পারলে রাজ্যে আরও একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। একাডেমিক ও সরকারি স্তরে আগামী দিনে সাঁওতালি চিকিৎসাবিদ্যা নিয়ে আরও বড় সমন্বিত উদ্যোগের পথ এই সেমিনার প্রশস্ত করল বলে মনে করা হচ্ছে।
।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত