(লিড) দিল্লি বিধানসভার ব্যারিয়ার ভেঙে সজোরে প্রবেশ করল গাড়ি, পুলিশের জালে তিন অভিযুক্ত
নয়াদিল্লি, ৬ এপ্রিল (হি. স.): রাজধানী দিল্লির উচ্চ নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে বিধানসভা চত্বরে সোমবার এক চাঞ্চল্যকর অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটল। এদিন দুপুর প্রায় ২:১০ মিনিট নাগাদ একটি দ্রুতগামী গাড়ি বিধানসভার ২ নম্বর গেটের ব্যারিয়ার ভেঙে সরাসরি ভেতরে ঢুকে পড়ায়
ফুলের তোরা


নয়াদিল্লি, ৬ এপ্রিল (হি. স.): রাজধানী দিল্লির উচ্চ নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে বিধানসভা চত্বরে সোমবার এক চাঞ্চল্যকর অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটল। এদিন দুপুর প্রায় ২:১০ মিনিট নাগাদ একটি দ্রুতগামী গাড়ি বিধানসভার ২ নম্বর গেটের ব্যারিয়ার ভেঙে সরাসরি ভেতরে ঢুকে পড়ায় গোটা চত্বরে তীব্র আতঙ্ক ও হুলুস্থুল পড়ে যায়। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে দিল্লি পুলিশ তদন্তে নামে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চালকসহ তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। ধৃত মূল অভিযুক্তের নাম সরবজিৎ এবং তার নামেই ওই টাটা সিয়েরা গাড়িটি নথিভুক্ত রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। অভিযুক্তদের দিল্লির রূপ নগর এলাকা থেকে পাকড়াও করা হয়েছে এবং বর্তমানে স্পেশাল সেল ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি তাদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে।

ঘটনার সময় বিধানসভা চত্বরের ভিআইপি গেটে সিআরপিএফ জওয়ানরা মোতায়েন থাকলেও, একটি দ্রুত গতির গাড়ি আচমকাই ব্যারিয়ারে সজোরে ধাক্কা মেরে ভেতরে ঢুকে পড়ে। কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গাড়িটি সরাসরি ভেতরে পৌঁছে যাওয়ায় সেখানে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, গাড়িটি থেকে এক ব্যক্তি বাইরে বেরিয়ে আসে যার হাতে একটি ফুলের তোড়া ও মালা ছিল। সে সটান বিধানসভা অধ্যক্ষের গাড়ির কাছে গিয়ে সেই ফুলের তোড়াটি রেখে কয়েক মিনিট সেখানে দাঁড়িয়ে থাকে এবং এরপর দ্রুত গাড়িতে চড়ে চম্পট দেয়। পরে পরীক্ষা করে দেখা যায় যে, ওই তোড়াটিতে কোনও বিস্ফোরক সামগ্রী ছিল না। তদন্তে জানা গেছে, গাড়িটি উত্তরপ্রদেশের পিলভিটের নামে নথিভুক্ত।

এই ঘটনার খবর পেয়েই দিল্লি পুলিশ কমিশনার সতীশ গোলচা নিজে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সাথে বৈঠক করে পুরো পরিস্থিতির পর্যালোচনা করেন। তিনি এই বিষয়ে কড়া আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্বয়ং দিল্লি বিধানসভার অধ্যক্ষ বিজেন্দ্র গুপ্তর সাথে ফোনে কথা বলে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ নিয়েছেন। অধ্যক্ষ জানিয়েছেন যে, ঘটনার সময় তিনি চত্বরেই উপস্থিত ছিলেন এবং নিরাপত্তার খাতিরে আপাতত তিনি ওই নির্দিষ্ট বাহনটির ব্যবহার বন্ধ রেখেছেন।

প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, অভিযুক্ত এই কাণ্ড ঘটানোর আগে বিধানসভা চত্বরে রেকি করেছিল এবং অধ্যক্ষের গতিবিধি সম্পর্কে তার কাছে স্পষ্ট তথ্য ছিল। সেই কারণেই সে অধ্যক্ষের প্রবেশের ঠিক দু’মিনিটের মাথায় ব্যারিয়ার ভেঙে ভেতরে ঢোকার সময়টি সুপরিকল্পিতভাবে বেছে নেয়। মাত্র ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে অভিযুক্ত চত্বরে প্রবেশ করে অধ্যক্ষের গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে আবার বেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এই সময় তার কাছে একটি ব্যাগও ছিল, যা নিয়ে সুরক্ষা সংস্থাগুলি বিশেষ সতর্ক রয়েছে। রাজধানীর এই অতি-সুরক্ষিত এলাকায় এমন অনভিপ্রেত অনুপ্রবেশ নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড়সড় চ্যূতি বলেই মনে করা হচ্ছে। পুলিশ বর্তমানে অভিযুক্তদের নেটওয়ার্ক এবং এর পেছনে কোনও গভীর ষড়যন্ত্রের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। ঘটনার পর বিধানসভা চত্বরে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং সেখানে মাল্টি-লেয়ার সিকিউরিটি সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা করছে দিল্লি পুলিশ।

-

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande