
কলকাতা, ৬ এপ্রিল (হি. স.): সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বড়সড় সাফল্য পেল পূর্ব রেল। ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে বাতিল সরঞ্জাম বা স্ক্র্যাপ বিক্রি করে আয়ের ক্ষেত্রে সর্বকালীন রেকর্ড গড়েছে এই রেল জোন। সোমবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘মিশন জিরো স্ক্র্যাপ’ ও ‘স্বচ্ছতা অভিযান’-এর অঙ্গ হিসেবে পুরনো লোহা, বাতিল কোচ, ওয়াগন ও অন্যান্য সরঞ্জাম বিক্রি করে মোট ৬০০.১১ কোটি টাকার 'নন-ফেয়ার' রাজস্ব অর্জিত হয়েছে।
রেল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে স্ক্র্যাপ বিক্রি থেকে আয় হয়েছিল ৫৩৭.৬৫ কোটি টাকা। সেই তুলনায় সদ্য সমাপ্ত অর্থবর্ষে আয় বেড়েছে প্রায় ১১.৬২ শতাংশ। এমনকি ২০২৩–২৪ অর্থবর্ষের ৪৮৯.৯৩ কোটি টাকার আয়ের তুলনায় এবারের প্রবৃদ্ধি ২২.৪৯ শতাংশ। এই ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি রেলের সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার সার্থকতাকেই প্রতিফলিত করছে।
বিভাগীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্ক্র্যাপ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ৪০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি বাতিল রেল ও পি-ওয়ে ফিটিংস, প্রায় ৬৫ হাজার মেট্রিক টন ফেরাস স্ক্র্যাপ এবং ৪,২০০ মেট্রিক টন নন-ফেরাস স্ক্র্যাপ বিক্রি করা হয়েছে। নিলামের তালিকায় ছিল ৪১০টি পুরনো কোচ, ৯১০টি ওয়াগন এবং ১৮টি ডিজেল ও ১৯টি ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ।
পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, স্ক্র্যাপ বিক্রির পাশাপাশি ২,০০০-এর বেশি পরিত্যক্ত রেল কাঠামো অপসারণ করা হয়েছে। এর ফলে রেলের অনেকটা জমি উদ্ধার সম্ভব হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করা যাবে। রেলের এই 'জিরো স্ক্র্যাপ' নীতি একদিকে যেমন রাজস্ব বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে রেল চত্বরকে জঞ্জালমুক্ত ও স্বচ্ছ রাখতেও সাহায্য করছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / এ. গঙ্গোপাধ্যায়