
শান্তিপুর, ৬ এপ্রিল (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর প্রচারের মাঝে নদিয়া জেলার শান্তিপুরে এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস এবার আগের চেয়েও বেশি আসন জিতে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরবে। সেই সঙ্গে দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের কোনও ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য তিনি আবেদন জানান।
শান্তিপুর স্টেডিয়ামে তৃণমূল প্রার্থী ব্রজকিশোর গোস্বামীর সমর্থনে আয়োজিত সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিনি যদি মানুষের মুখ এবং আবেগ সঠিক বুঝতে পারেন, তবে এবার তৃণমূল কংগ্রেস আরও বেশি জনসমর্থন পাবে। তিনি এই নির্বাচনকে বাংলার অস্মিতা এবং মানুষের ভবিষ্যতের লড়াই বলে অভিহিত করেন।
সভায় তিনি অভিযোগ করেন যে, বিরোধী দলগুলি পরিকল্পিতভাবে প্রচার করছে যে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) জিতছে। মমতা বলেন, গণনার সময় কিছু এলাকার ফলাফল আগে দেখিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হতে পারে, তাই কর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, কোনও ধরনের চাপে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই এবং গণতান্ত্রিকভাবে জবাব দেওয়াই হলো শ্রেষ্ঠ প্রতিরোধ।
বিজেপি-র ওপর তীক্ষ্ণ আক্রমণ শানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তারা মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার রাজনীতি করে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সাধারণ মানুষ কি এমন দলকে ভোট দেবে যারা তাঁদের খাদ্য, বস্ত্র এবং ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার কথা বলে? ধর্মের ইস্যুতেও তিনি বিজেপি-কে নিশানা করে বলেন, বাংলার সংস্কৃতি সহিষ্ণুতা ও সম্প্রীতির, এখানে কাউকে ধর্মের পাঠ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের উল্লেখ করে বলেন, বিনামূল্যে রেশন, কন্যাশ্রীর মতো প্রকল্পগুলি আগে থেকেই চলছে এবং ভবিষ্যতেও চলবে। তিনি জানান, তাঁর সরকার অনেক হাসপাতাল ও স্কুল তৈরি করেছে এবং আগামীতে আরও সরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল খোলা হবে যাতে মানুষকে ব্যয়বহুল বেসরকারি স্কুলের ওপর নির্ভর করতে না হয়। মহিলাদের জন্য ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পও সচল থাকবে বলে তিনি জানান।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও অভিযোগ করেন যে, মানুষকে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। তিনি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেন, কোনও অচেনা ব্যক্তিকে যেন ব্যাঙ্কের তথ্য না দেওয়া হয়। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রাজনীতি গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়।
বক্তব্যের শেষে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে বলেন, তাঁর ওপর বহুবার হামলা হয়েছে কিন্তু তিনি ভয় পান না। তিনি সাহসের সঙ্গেই জীবন অতিবাহিত করবেন। প্রচারের কারণে তাঁকে দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে সাধারণ খাবার খেয়ে কাটাতে হচ্ছে বলেও তিনি জানান। ভোটদানের দিন ভোটারদের আটকানোর চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি সকলকে সতর্ক থাকার এবং অবশ্যই ভোট দেওয়ার আবেদন জানান।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি