
কলকাতা, ৬ এপ্রিল (হি.স.): প্রখ্যাত চিকিৎসক তথা পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত ডাঃ মণি কুমার ছেত্রীর রবিবার রাতে জীবনাবসান হয়েছে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০৫ বছর।
পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, রাত ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ কলকাতার বালিগঞ্জ প্লেসের বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জানা গিয়েছে, গত বেশ কিছু সময় ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায় ১৫ দিন আগে মাথায় চোট পাওয়ার পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। সমাজ মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রথিতযশা চিকিৎসক ডা. মণি ছেত্রীর প্রয়াণে আমি শোকাহত। বাংলা তথা ভারতের চিকিৎসা জগতে একটা অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।
আমি তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি ও তাঁর পরিবার তথা অগণিত ছাত্রছাত্রী-রোগী-গুণমুগ্ধদের প্রতি আমার সমবেদনা জানাই। ডাঃ ছেত্রী এসএসকেএম হাসপাতালের অধিকর্তা ছিলেন। তাঁর প্রচেষ্টাতেই এই হাসপাতালে ইনটেনসিভ থেরাপি ইউনিট (আইটিইউ) স্থাপিত হয়েছিল। পাশাপাশি এন্ডোক্রিনোলজি, কার্ডিওলজি, নেফ্রোলজি এবং রিউম্যাটোলজির মতো বিভাগগুলিও তাঁর উদ্যোগেই রাজ্যে প্রথমবার চালু হয়। ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম ডাঃ ছেত্রীকে শ্রদ্ধা জানাতে সোমবার রাজ্যের সমস্ত চিকিৎসকদের কালো ব্যাজ পরে কাজ করার আবেদন জানায়।
ডাঃ মণি কুমার ছেত্রীর জন্ম ১৯২০ সালের ২৩ মে দার্জিলিংয়ে। ১৯৩৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৪৪ সালে চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫৫ সালে লন্ডনের রয়্যাল কলেজ অফ ফিজিশিয়ানস থেকে এমআরসিপি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। লন্ডন থেকে ফেরার পর স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের আমলে তিনি প্রেসিডেন্সি জেনারেল হাসপাতালে পরামর্শদাতা চিকিৎসক হিসেবে নিযুক্ত হন।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৭৪ সালে ভারত সরকার তাঁকে 'পদ্মশ্রী' সম্মানে ভূষিত করেছিল।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি