অসমে বিজেপি-এনডিএ জয়ের হ্যাটট্রিক নিশ্চিত, বরপেটায় নির্বাচনী সমাবেশে মোদী
কংগ্রেসের ‘রাজ পরিবার’-এর পরাজয় নতুন রেকর্ড গড়বে এবার বরপেটা (অসম), ৬ এপ্রিল (হি.স.) : অসমের বরপেটায় এক নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, রাজ্যের মানুষ এ বার দুটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন - প্রথমত, বিজেপি-নেতৃত্বাধীন
অসমের বরপেটায় নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী মোদী


অসমের বরপেটায় নির্বাচনী সমাবেশে জনসমুদ্ৰ


কংগ্রেসের ‘রাজ পরিবার’-এর পরাজয় নতুন রেকর্ড গড়বে এবার

বরপেটা (অসম), ৬ এপ্রিল (হি.স.) : অসমের বরপেটায় এক নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, রাজ্যের মানুষ এ বার দুটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন - প্রথমত, বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের হ্যাটট্রিক জয়; দ্বিতীয়ত, কংগ্রেসের ‘রাজ পরিবারের’ নেতার পরাজয়ের নতুন রেকর্ড গড়া।

বিশাল সমাবশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অসমের মানুষের উৎসাহ, শক্তি ও আশীর্বাদ অভূতপূর্ব। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এ বার রাজ্যে একটি ‘উদ্যমী’ বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার গঠিত হবে। কংগ্রেসকে নিশানা করে তিনি অভিযোগ করেন, দলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন দৃষ্টিভঙ্গির অভাব রয়েছে, তারা কেবল স্বল্পমেয়াদি লাভ ও দুর্নীতিতে মনোনিবেশ করেছে।

তিনি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আদিবাসী সমাজের প্রতি ‘সবচেয়ে বড় অন্যায়’ করার অভিযোগ তুলেছেন। বলেন, কংগ্রেসের দীর্ঘ শাসনকালে আদিবাসী এলাকাগুলিতে দারিদ্র্য, হিংসা ও অনিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি ছিল।

মোদীর অভিযোগ, কংগ্রেস অনুপ্রবেশকারীদের খোলাখুলিভাবে সমর্থন করছে, আর বিরোধিতা করছে অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার। তিনি বলেন, কংগ্রেস এমন একটি আইন আনার কথা বলছে, যাতে ‘অনুপ্রবেশকারী’ শব্দটি ব্যবহার করাও অপরাধ হয়ে উঠতে পারে এবং অনুপ্রবেশকারীদের ভুক্তভোগী হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে। যার ফলে অসমের মূল বাসিন্দা ও জনজাতি সম্প্রদায়ের ওপর আইনি ঝুঁকি তৈরি হবে।

তিনি বলেন, বিজেপি সরকার ‘বিকশিত অসম’-এর লক্ষ্যে ‘বিকশিত ভারত’-এর দিকে এগোচ্ছে। গত দশ বছরে অসমকে ভয় ও অস্থিরতা থেকে বের করে এনে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং অসমের পরিচয় রক্ষার কাজ করা হয়েছে। আগামী দশকে অসমকে আত্মনির্ভর করে তোলা এবং বিশ্বমঞ্চে তার পরিচিতি প্রতিষ্ঠা করার গ্যারান্টি দিচ্ছি।

কৃষকদের প্রসঙ্গেও তিনি কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন। বলেন, ২০১৪ সালের আগে দশ বছরে ধানচাষিদের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য-এর মাধ্যমে প্রায় ৪ লক্ষ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল, যেখানে ২০১৪ সালের পর তা বেড়ে ১৬ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

তিনি জানান, ২০১৩ সালে ধানের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ছিল প্রতি কুইন্টালে ১৩০০ টাকা, যা এখন বেড়ে প্রায় ২৩৭০ টাকা হয়েছে।

বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী দেশ-বিদেশে যুক্ত সকল কার্যকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় স্বার্থ প্রথম’ মন্ত্র নিয়ে দল ‘মা ভারতীর সেবা’য় নিবেদিত এবং আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে।

মহিলা সংরক্ষণ বিলের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সব দলের সহযোগিতায় এ বিষয়ে এগোচ্ছে, নারীর অধিকারকে শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বর্তমান সরকার। তিনি বলেন, কিছু মানুষ এই মহৎ উদ্যোগ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু এর ফলে দেশের সব রাজ্যই উপকৃত হবে, কোনও রাজ্যের ক্ষতি হবে না। উত্তরপূর্ব বা দক্ষিণ ভারত যেখানে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা রয়েছে, তাদের প্রতিনিধিত্ব কমবে না। বরং নারীদের জন্য অতিরিক্ত আসনের ব্যবস্থা করা হবে এবং বর্তমান আসনের সংখ্যা বাড়ানো উচিত। তিনি জানান, আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। অধিবেশনে সকল রাজনৈতিক দলকে ঐকমত্যে পৌঁছানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এপ্রিল মাস অসমে বহাগ বিহুর উৎসব নিয়ে আসে। এ বার তা গণতন্ত্রের উৎসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, কারণ ভোটগ্রহণ আসন্ন।

তিনি বলেন, কংগ্রেস কখনও জনগণের সামনে নিজেদের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে যায় না, অথচ বিজেপি সরকার স্বচ্ছতার সঙ্গে নিজেদের কাজের হিসাব দেয়। তিনি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীকে অপমান করার অভিযোগও তুলেছেন। এয়ার স্ট্রাইক ও সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। ‘ওয়ান র্যাংনক ওয়ান পেনশন’-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এটি কংগ্রেসের দ্বারা সেনাদের বিশ্বাসভঙ্গের উদাহরণ।

শেষে তিনি বলেন, এ বার জনগণের ভোট ‘বিকশিত অসম’-এর ভিত্তিকে আরও মজবুত করবে এবং রাজ্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বিজেপিকে দেওয়া প্রতিটি ভোট অসমের পরিচয় ও নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করবে। বহু বছরের প্রচেষ্টা ও ত্যাগের পর অসমে শান্তি ফিরে এসেছে এবং তা বজায় রাখতে কংগ্রেসকে ক্ষমতার বাইরে রাখা জরুরি।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande