
আগরতলা, ৬ এপ্রিল (হি.স.) : ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ৫৬-ধর্মনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন। ওইদিন সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ভোট গণনা হবে আগামী ৪ মে সকাল ৮টা থেকে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সমস্ত প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ করা হয়েছে বলে সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনে জানান রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক ব্রিজেশ পান্ডে।
তিনি জানান, এবারের উপনির্বাচনে মোট ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিজেপি প্রার্থী জহর চক্রবর্তী, কংগ্রেস প্রার্থী চয়ন ভট্টাচার্য, সিপিআই(এম) প্রার্থী অমিতাভ দত্ত, আমরা বাঙালী দলের বিভাস রঞ্জন দাস, এসইউসিআই(সি)-এর সঞ্জয় চৌধুরী এবং নির্দল প্রার্থী ব্রজলাল দেবনাথ।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৪৬,১৪২ জন। এর মধ্যে মহিলা ভোটার ২৩,৭৫৮ জন এবং পুরুষ ভোটার ২২,৩৮৪ জন। এছাড়া ৯১ জন সার্ভিস ভোটার রয়েছেন, যার মধ্যে ৮৮ জন পুরুষ এবং ৩ জন মহিলা। মোট ৫৫টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের মধ্যে ৩২টি নগর এলাকায় এবং ২৩টি গ্রামীণ এলাকায় অবস্থিত।
মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক জানান, ৫৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১১টি মডেল পোলিং স্টেশন করা হয়েছে। এছাড়া ১১টি সম্পূর্ণ মহিলা পরিচালিত কেন্দ্র, ২টি দিব্যাঙ্গ পরিচালিত কেন্দ্র এবং ২টি যুব পরিচালিত কেন্দ্র রাখা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পানীয় জল, বিদ্যুৎ, র্যাম্প, শৌচালয় ও অপেক্ষমাণ ভোটারদের জন্য শেডের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভোটকর্মীরা পিএমশ্রী ধর্মনগর গভর্নমেন্ট গার্লস এইচ এস স্কুল থেকে রওনা দেবেন। একই স্থানে স্ট্রং রুম তৈরি করা হয়েছে এবং সেখানেই ভোট গণনা অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন উপলক্ষ্যে সাধারণ, পুলিশ ও ব্যয় পর্যবেক্ষক ইতিমধ্যেই ধর্মনগরে অবস্থান করছেন। এছাড়া ৭৫ জন মাইক্রো অবজারভার নিয়োগ করা হয়েছে।
নির্বাচনকে ঘিরে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ৭ এপ্রিল বিকাল ৫টার পর থেকে ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের প্রচার বন্ধ থাকবে। ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা যাবে না। ৯ এপ্রিল সকাল ৭টা থেকে ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এক্সিট পোল প্রকাশ নিষিদ্ধ থাকবে।
উপনির্বাচন উপলক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য উত্তর ত্রিপুরা জেলায় ড্রাই ডে ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ভোটের দিন সংশ্লিষ্ট এলাকায় সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে।
ভোটাররা সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্র ছাড়াও আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্টসহ মোট ১২ ধরনের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভোট দিতে পারবেন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।
দিব্যাঙ্গ ও ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণ ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ১৮৫ জন প্রবীণ ও দিব্যাঙ্গ ভোটার এবং ১৬৬ জন নির্বাচনী কর্মী পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদান করেছেন। ১১ জন সার্ভিস ভোটারকেও পোস্টাল ব্যালট সরবরাহ করা হয়েছে।
ভোট চলাকালীন পোলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের মোবাইল ফোন জমা রাখতে হবে। ভোটারদের সুবিধার্থে ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ভোটার হেল্পলাইন, সি-ভিজিল, ‘নো ইউর ক্যান্ডিডেট’ এবং সক্ষম ইসিআই অ্যাপ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক। একই সঙ্গে তিনি ধর্মনগরের ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। প্রসঙ্গত, সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক উষাজেন মগ, ডেপুটি সিইও উৎপল চাকমা ও সুমন বণিক।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ