
কলকাতা, ৮ এপ্রিল (হি. স.) : ডিজিটাল যুগে খাবার ডেলিভারি এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রযুক্তির এই সুবিধাকে ব্যবহার করেই এবার সমাজের এক বড় সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এল নতুন এক অলাভজনক উদ্যোগ— ‘বুক আ মিল’। দেশের দরিদ্র ও অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের কাছে সহজে পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়াই এই প্ল্যাটফর্মের প্রধান লক্ষ্য। বুধবার কলকাতায় আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ হলো এই নতুন অ্যাপটি।
সুইগি বা জোম্যাটোর মতো জনপ্রিয় ফুড ডেলিভারি অ্যাপের আদলেই ডিজাইন করা হয়েছে এই প্ল্যাটফর্মটি। এখানে ব্যবহারকারীরা সাধারণ অ্যাপের মতোই মেনু থেকে বিভিন্ন খাবার বেছে নিতে পারেন। তবে পার্থক্য একটাই— অর্ডার করা খাবার ব্যবহারকারীর নিজের বাড়িতে পৌঁছাবে না। বরং সেই খাবার সরাসরি পৌঁছে যাবে বস্তি, আশ্রয় কেন্দ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুদের কাছে।
সংস্থার ওয়েবসাইট এবং অ্যাপটি দেখতে সাধারণ ফুড অ্যাপের মতোই। এখানে উত্তর ভারতীয় থালি, দক্ষিণ ভারতীয় পদ, নিরামিষ ও আমিষ খাবার এবং ফলের মতো নানা পুষ্টিকর খাবারের তালিকা রয়েছে। ব্যবহারকারীরা তাঁদের পছন্দ অনুযায়ী খাবার বেছে নিয়ে অনুদান হিসেবে সেটি ‘অর্ডার’ করতে পারেন। অর্ডার দেওয়ার পর, ব্যাক এন্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবক ও পার্টনার কিচেনের কাছে সেই অনুদান পৌঁছে যায়। সেখানেই টাটকা খাবার তৈরি করে প্রয়োজনীয় শিশু ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দান করার প্রক্রিয়াটিকে সহজ এবং পরিচিত করে তোলাই ছিল তাঁদের মূল ভাবনা। তাঁদের মতে, মানুষ যদি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে নিজের জন্য বিরিয়ানি বা ইডলি অর্ডার করতে পারেন, তবে সমাজসেবার ক্ষেত্রেও পদ্ধতিটি ততটাই সহজ হওয়া উচিত। এই ধারণা থেকেই ‘বুক আ মিল’-এর জন্ম।
বর্তমানে এই সংস্থাটি প্রতিদিন এক হাজারেরও বেশি মানুষের জন্য খাবার সরবরাহ করছে এবং ধীরে ধীরে এর পরিসর বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের অপুষ্টি দূরীকরণে জোর দেওয়া হচ্ছে। ইতিপূর্বেই বিভিন্ন সরকারি ও অনুন্নত স্কুলের সঙ্গে যৌথভাবে পুষ্টিকর মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা শুরু করেছে তারা। এছাড়া অনাথ আশ্রম ও আশ্রয় কেন্দ্রগুলিতে নিয়মিত খাবার নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরের বস্তি ও নিম্নবিত্ত এলাকাগুলোতে শিশুদের অপুষ্টির যে সমস্যা রয়েছে, তা দূর করতে ডিজিটাল প্রযুক্তির এই অভিনব ব্যবহার ভবিষ্যতে এক নতুন দিশা দেখাতে পারে।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত