
ঢাকা, ৯ এপ্রিল, (হি.স.): ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর গত ৩ (তিন) মাসে সারা দেশে পূর্বেকার মত সাম্প্রদায়িক হিংসা অব্যাহত থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। বৃহস্পতিবার সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানান।
তিনি লিখেছেন, “সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রদত্ত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ- এ তিন মাস সময়কালে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ১৩৩টি। এর মধ্যে হত্যার ঘটনা ২৫টি, ধর্ষন ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ৪টি, মন্দিরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ৩৫ টি এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের উপর হামলাসহ অন্যান্য ৬৯টি।
২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে মোট ৪৬টি সংখ্যালঘু ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে হত্যা: ১১টি, ধর্ষণ: ১টি, মন্দিরে হামলা: ৯টি, আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর হামলা: ১টি, হামলা, ডাকাতি, ভাঙচুর, হুমকি, বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনা: ১৫টি, ভূমি দখল: ৩টি, চাঁদাবাজি: ১টি এবং অন্যান্য: ৫টি।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে মোট ৫০টি সংখ্যালঘু ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে হত্যা: ৮টি, ধর্ষণ: ১টি, মন্দিরে হামলা: ১৫টি, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ: ১টি, হামলা, ডাকাতি, ভাঙচুর, হুমকি, বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনা: ১৭টি, ভূমি দখল: ৬টি, অপহরণ: ১টি এবং অন্যান্য: ১টি।
২০২৬ সালের মার্চ মাসে মোট ৩৭টি সংখ্যালঘু ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে হত্যা: ৬টি, ধর্ষণ/যৌন হয়রানি: ২টি, মন্দিরে হামলা: ১১টি, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হামলা: ১টি, আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর হামলা: ১টি, হামলা, ডাকাতি, ভাঙচুর, হুমকি, বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনা: ৭টি, ভূমি দখল: ৪টি এবং অন্যান্য: ৫টি।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আশা করেছিল, বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর এ ধরণের হামলার ঘটনা তেমন ঘটবে না। কিন্তু এতদসত্ত্বেও এ ঘটনা অব্যাহত থাকায় সংখ্যালঘুরা উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত। পরিষদ উল্লেখিত এসব ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিদান, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ, আহতদের সুচিকিৎসার পাশাপাশি সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠনসহ ৮ (আট) দফা দাবি পূরণের জন্যে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে।”
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত