ইরান অভিযানে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পক্ষে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী, ‘কংগ্রেসের অনুমতি এখন জরুরি নয়’
ওয়াশিংটন, ১ মে (হি.স.): ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। এই অভিযানের বৈধতা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক তীব্র আকার নিয়েছে। বৃহস্পতিবার সিনেট আর
ইরান অভিযানে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পক্ষে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী, ‘কংগ্রেসের অনুমতি এখন জরুরি নয়’


ওয়াশিংটন, ১ মে (হি.স.): ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। এই অভিযানের বৈধতা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক তীব্র আকার নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শুনানিতে হাজির হয়ে হেগসেথ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের কংগ্রেসের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তাঁর যুক্তি, চলমান যুদ্ধবিরতির কারণে ৬০ দিনের আইনি সময়সীমা কার্যত স্থগিত রয়েছে।

১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন’ অনুযায়ী, কোনও সামরিক অভিযান শুরু হলে ৬০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয়, নতুবা অভিযান বন্ধ করতে হয়। ইরান ইস্যুতে সেই সময়সীমা প্রায় শেষের দিকে। তবে হেগসেথের দাবি, যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতিতে এই নিয়ম আপাতত প্রযোজ্য নয়।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন এই ব্যাখ্যা খারিজ করে বলেন, আইনে এমন কোনও ব্যতিক্রমের উল্লেখ নেই এবং বিষয়টি গুরুতর সাংবিধানিক প্রশ্ন। অন্যদিকে, সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা জন থিউন জানিয়েছেন, আপাতত যুদ্ধ অনুমোদন নিয়ে ভোটের সম্ভাবনা নেই।

আলাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মুরকাউস্কি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে হোয়াইট হাউস থেকে স্পষ্ট পরিকল্পনা না এলে তিনি যুদ্ধ অনুমোদন সংক্রান্ত প্রস্তাব আনবেন। একই সুরে রিপাবলিকান সিনেটর জশ হাওলি জানান, প্রশাসন চাইলে আইনের আওতায় অতিরিক্ত ৩০ দিনের সময় চাইতে পারে।

শুনানিতে ইরানের একটি মেয়েদের স্কুলে হামলার ঘটনাও উঠে আসে, যেখানে ১৭০-র বেশি মানুষের মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় সামরিক জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন একাধিক সাংসদ। হেগসেথ জানান, পেন্টাগন এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহায়ক ব্যবস্থার পাশাপাশি মানবিক নজরদারিও জোরদার করছে।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস্টেন গিলিব্র্যান্ড ও ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাডাম শিফ দাবি করেন, এই যুদ্ধের পক্ষে জনসমর্থন নেই এবং শুরু থেকেই এটি আইনসঙ্গত ছিল না। পাল্টা হেগসেথ বলেন, প্রশাসনের পদক্ষেপে দেশের নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে। তবে গিলিব্র্যান্ডের বক্তব্য, এর পক্ষে কোনও দৃঢ় প্রমাণ নেই।

এদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন অভিযানের ফলে ইরানে বড় ধরনের প্রাণহানি রোধ করা গেছে এবং দেশটির সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে। তাঁর মতে, এটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ নয়, বরং একটি সীমিত সামরিক অভিযান।

ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে প্রণীত এই আইনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ৬০ দিনের বেশি সময় সামরিক অভিযান চালাতে চাইলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে বা আসন্ন হামলার জবাব দিতে প্রেসিডেন্ট স্বল্প সময়ের জন্য একতরফা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে গেলে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমতি ছাড়া সামরিক অভিযান চালানো সংবিধানবিরোধী হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন ২ মার্চ যুদ্ধ শুরুর কথা কংগ্রেসকে জানায়, সেই হিসাবে ১ মে ৬০ দিনের সময়সীমা পূর্ণ হচ্ছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande