গ্রেট নিকোবর প্রকল্পে পরিবেশের ছাড়পত্র নিয়ে প্রশ্ন তুললেন জয়রাম রমেশ
নয়াদিল্লি, ১০ মে (হি.স.): গ্রেট নিকোবর দ্বীপ উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে ফের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হল কংগ্রেস। পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্র প্রদানের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবকে চ
গ্রেট নিকোবর প্রকল্পে পরিবেশ ছাড়পত্র নিয়ে প্রশ্ন তুললেন জয়রাম রমেশ


নয়াদিল্লি, ১০ মে (হি.স.): গ্রেট নিকোবর দ্বীপ উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে ফের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হল কংগ্রেস। পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্র প্রদানের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবকে চিঠি লিখেছেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ। তাঁর অভিযোগ, অসম্পূর্ণ ও অপর্যাপ্ত পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই প্রকল্পকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

রবিবার সামাজিক মাধ্যমে নিজের চিঠি প্রকাশ করে জয়রাম রমেশ জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকাশিত ‘গ্রেট নিকোবর প্রজেক্ট এফএকিউ’-তে যে দাবি করা হয়েছে, তা পরিবেশ মন্ত্রকের সরকারি নথি ও বিভিন্ন গবেষণার সঙ্গে মিলছে না। তাঁর বক্তব্য, প্রকল্পের সম্ভাব্য পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।

জয়রাম রমেশ দাবি করেন, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে এই ধরনের বন্দর প্রকল্পের জন্য বিস্তৃত পরিবেশগত সমীক্ষা বাধ্যতামূলক। কিন্তু গ্রেট নিকোবরের মতো সংবেদনশীল জীববৈচিত্র্যপূর্ণ এলাকায় মাত্র এক মরসুমের তথ্যের উপর ভিত্তি করে সমীক্ষা চালানো হয়েছে, যা বৈজ্ঞানিক মানদণ্ডের পরিপন্থী।

তিনি জানান, ২০২২ সালের মার্চে জমা পড়া চূড়ান্ত পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন রিপোর্টে স্বীকার করা হয়েছে যে সমীক্ষা চালানো হয়েছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে। জীববৈচিত্র্য সমীক্ষাও মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তাঁর মতে, এত স্বল্প সময়ের গবেষণায় কোনও এলাকার প্রকৃত পরিবেশগত অবস্থা বোঝা সম্ভব নয়।

জয়রাম আরও অভিযোগ করেন, রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে যে ঘন জঙ্গলের কারণে পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা সম্ভব হয়নি। এমনকি রিপোর্টে এটাও বলা হয়েছে যে এখনও বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অজানা রয়ে গেছে। তাঁর দাবি, এই মন্তব্যই প্রমাণ করে সমীক্ষা অসম্পূর্ণ ছিল।

কংগ্রেস নেতা বলেন, ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার ২০২১ সালের মানচিত্রে গ্যালাথিয়া উপসাগরকে ক্ষয়প্রবণ উপকূলীয় অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এত সংবেদনশীল এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি ও বিস্তারিত পরিবেশ সমীক্ষা জরুরি ছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি জাতীয় সবুজ ট্রাইব্যুনালের ২০২৩ সালের নির্দেশের উল্লেখ করে বলেন, ট্রাইব্যুনাল পরিবেশ ছাড়পত্রে “অমীমাংসিত ত্রুটি”-র কথা উল্লেখ করেছিল এবং পুনর্মূল্যায়নের জন্য উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু সেই কমিটির রিপোর্ট এখনও প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন জয়রাম।

জয়রাম রমেশের বক্তব্য, গ্রেট নিকোবরের বিরল জীববৈচিত্র্য ও প্রাচীন বনভূমি ধ্বংস হলে তার ক্ষতিপূরণ করা সম্ভব নয়। কৃত্রিম বনসৃজন কখনও প্রাকৃতিক অরণ্যের বিকল্প হতে পারে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দেশের কৌশলগত প্রয়োজন মেটানোর জন্য পরিবেশ ধ্বংস করা আবশ্যক নয়।

শেষে তিনি প্রকল্পের বর্তমান রূপরেখা, পরিবেশ ছাড়পত্র প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত সমীক্ষার পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande