
ঢাকা, ১০ মে (হি.স.) : বাংলাদেশের চট্টগ্রামের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় শনিবার হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে জামিন দিতে অস্বীকার করল বাংলাদেশের হাই কোর্ট। বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের ডিভিশন বেঞ্চ তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। তবে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আরও চারটি মামলায় সোমবার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
জানা গেছে , চিন্ময় দাসের পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য। অন্যদিকে সরকারের পক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শায়লা শারমিন এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল মহম্মদ আলামিন। এর আগে ৩০ এপ্রিল জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাঁকে জামিন দিয়েছিল হাই কোর্ট।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চাঁদগাঁও মোহড়া ওয়ার্ড ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী-সহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে তাঁর সমর্থকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। পরে হাই কোর্ট হত্যা মামলা-সহ পাঁচটি পৃথক মামলায় কেন চিন্ময় দাসকে জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চায়।
চট্টগ্রামের একটি আদালত চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল একটি মামলায় তাঁকে জামিন দিলেও তিনি এখনও কারাগারেই রয়েছেন। ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে তাঁকে চট্টগ্রাম জেলে রাখা হয়েছে। যে মামলায় তিনি জামিন পেয়েছিলেন, তা ২০২৩ সালে বিএনপি নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী মীর মহম্মদ নাসির উদ্দিন দায়ের করেছিলেন। সেখানে জমি দখল, হুমকি ও মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছিল চিন্ময় ব্রহ্মচারীর বিরুদ্ধে।
এছাড়া আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলাতেও তাঁর বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া চলছে। এই মামলাতেই শনিবার হাই কোর্ট তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে আরও অন্তত ছয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ২০২৫ সালের ১ জুলাই পুলিশ চিন্ময় ও আরও ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারিও আদালত তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করেছিল। ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে আটক করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা।
চিন্ময় ব্রহ্মচারীর গ্রেফতারের প্রতিবাদে ঢাকা ও চট্টগ্রামে একাধিক বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছিল। প্রায় ৪০ বছর বয়সি এই হিন্দু সন্ন্যাসী চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাসিন্দা। ২০০৭ সাল থেকে তিনি চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ‘সনাতন জাগরণ মঞ্চ’-এর প্রতিষ্ঠাতা। বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই মঞ্চ সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য