জল নিকাশির অভাবে জলবন্দি রাখালতলি, হাঁটু জল ডিঙিয়ে চলছে জীবনযাত্রা
কুমারঘাট (ত্রিপুরা), ১০ মে (হি.স.) : সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু সমান জল। সেই জল ডিঙিয়েই স্কুলে যেতে হচ্ছে পড়ুয়াদের, কাজে বেরোতে হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের। রান্নাঘর থেকে শৌচালয় পর্যন্ত ডুবে রয়েছে নোংরা জলে। দীর্ঘ দু’বছর ধরে এমন দুর্বিষহ পরিস্থিতির ম
জলবন্দি পরিবারের দুর্দশা


কুমারঘাট (ত্রিপুরা), ১০ মে (হি.স.) : সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু সমান জল। সেই জল ডিঙিয়েই স্কুলে যেতে হচ্ছে পড়ুয়াদের, কাজে বেরোতে হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের। রান্নাঘর থেকে শৌচালয় পর্যন্ত ডুবে রয়েছে নোংরা জলে। দীর্ঘ দু’বছর ধরে এমন দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন ঊনকোটি জেলার কুমারঘাট মহকুমার পাবিয়াছড়া বিধানসভা এলাকার সোনাইমুড়ি রাখালতলি গ্রামের এক নম্বর ওয়ার্ডের অন্তত সাতটি পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় স্থায়ী জল নিকাশির ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির জল জমে থেকে কার্যত জলবন্দি হয়ে পড়েছে গোটা এলাকা। গ্রামবাসীদের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটিও রয়েছে জলমগ্ন অবস্থায়। ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলকেই।

ভুক্তভোগী বাসিন্দা নিয়তি মালাকার জানান, আগে এলাকায় জল নিষ্কাশনের জন্য একটি ড্রেন ছিল। কিন্তু জাতীয় সড়ক নির্মাণের পর সেই ড্রেন কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই শুরু হয় জল জমার সমস্যা। বৃষ্টির জল বেরোনোর কোনও পথ না থাকায় তা রাস্তার ওপর জমে থাকে দিনের পর দিন। শুধু রাস্তা নয়, অনেকের বাড়ির রান্নাঘর এবং শৌচালয় পর্যন্ত ডুবে থাকে নোংরা জলে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে রোগ-সংক্রমণের আশঙ্কাও।

স্থানীয় বাসিন্দা পূর্ণিমা মালাকার অভিযোগ করে বলেন, গত প্রায় পনেরো দিন ধরে জলবন্দি অবস্থায় রয়েছেন তাঁরা। অথচ প্রশাসন কিংবা জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। জাতীয় সড়ক নির্মাণের সময় পুরনো ড্রেন বন্ধ করে দেওয়া হলেও নতুন করে কোনও বিকল্প জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ছে।

তিনি আরও জানান, বাড়ি থেকে বের হওয়া এখন রীতিমতো কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। স্কুল পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের নোংরা জল পেরিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকেরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতেও ভয় পাচ্ছেন। ফলে শিক্ষার ক্ষেত্রেও এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

সম্প্রতি কুমারঘাট মহকুমা এলাকায় টানা বৃষ্টির পর সমস্যাটি আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। কয়েকদিন আগে বৃষ্টি থেমে গেলেও জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এখনও পর্যন্ত জমে রয়েছে জল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ দু’বছর ধরে এই সমস্যা চললেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ দেখা যায়নি।

গ্রামের পাশ দিয়ে নির্মিত জাতীয় সড়ককে ঘিরে উন্নয়নের আশা দেখেছিলেন বাসিন্দারা। কিন্তু সেই উন্নয়নের ফল আজ উল্টো দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি তাঁদের। দ্রুত স্থায়ী জল নিকাশির ব্যবস্থা করে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন রাখালতলি গ্রামের বাসিন্দারা। এখন প্রশাসন এ বিষয়ে কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ক্ষুব্ধ ও অসহায় এলাকাবাসী।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande