
বাঁকুড়া, ১১ মে (হি.স.) : টেরাকোটার মন্দির, বালুচরি শাড়ি, উচ্চাঙ্গ সংগীত ও ঐতিহ্যের শহর বিষ্ণুপুর এবার রাজনৈতিক বার্তাতেও নজর কাড়ল। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে দলবদলু নেতাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট রায় দিয়েছেন বিষ্ণুপুরের ভোটাররা।
এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তন্ময় ঘোষ (বুম্বা) বিজেপি প্রার্থী শুক্লা চ্যাটার্জির কাছে ৩০ হাজার ৬০৫ ভোটে পরাজিত হন। শুক্লা চ্যাটার্জি মোট ১ লক্ষ ১১ হাজার ৮২টি ভোট পেয়ে ৫৩.৫৪ শতাংশ ভোট লাভ করেন। অন্যদিকে তন্ময় ঘোষ পান ৮০ হাজার ৪৭৭ ভোট, যা মোট ভোটের ৩৮.৭৯ শতাংশ।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তন্ময় ঘোষ বিজেপির টিকিটে এই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। সে সময় তিনি ৮৯ হাজার ৬৮৯ ভোট পেয়ে তৃণমূল প্রার্থী অর্চিতা বিদকে ১১ হাজার ৪২০ ভোটে পরাজিত করেন। কিন্তু জয়ের কিছুদিন পরই তিনি বিজেপি ছেড়ে ফের তৃণমূলে যোগ দেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই দলবদল ভালোভাবে নেননি সাধারণ ভোটাররা। এবারের ফল সেই অসন্তোষেরই প্রতিফলন।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, বিজেপি প্রার্থী শুক্লা চ্যাটার্জির ভোট কাটতেই ‘শুক্লা ব্যানার্জি’ নামে এক নির্দল প্রার্থীকে দাঁড় করানো হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে কোনও পক্ষের তরফে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
পেশায় ব্যবসায়ী তন্ময় ঘোষ ২০১৫ সালে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে বিষ্ণুপুর পুরসভার কাউন্সিলর হন। পরে প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য এবং শহর যুব তৃণমূলের সভাপতির দায়িত্বও পান। ২০২১ সালে তৃণমূলের টিকিট না পেয়ে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন এবং সেই দলের প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন। কিন্তু একই বছর ফের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান পরিবর্তনের জেরেই ভোটারদের একাংশের আস্থা হারান তন্ময় ঘোষ। বিষ্ণুপুরে দলবদলের রাজনীতি অবশ্য নতুন নয়। ২০১৬ সালে বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী তুষার ভট্টাচার্য জয়ী হওয়ার পর তৃণমূলে যোগ দেন। আবার ২০১১ সালে কংগ্রেস নেতা তথা বিষ্ণুপুরের জনপ্রিয় পৌরপ্রধান শ্যামাপদ মুখার্জি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আহ্বানে তৃণমূলে যোগ দিয়ে বামেদের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটান। পরে ২০২১ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। রাজনৈতিক অবস্থান বদলের জেরে তাঁকেও নানা বিতর্কের মুখে পড়তে হয়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিষ্ণুপুরের এবারের ফল শুধু একটি আসনের ফল নয়, বরং দলবদল নিয়ে সাধারণ মানুষের মনোভাবেরও স্পষ্ট প্রতিফলন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট