
নয়াদিল্লি, ১১ মে (হি. স.): নয়াদিল্লিতে সোমবার চালু হল নতুন মাল্টি-লেন ফ্রি ফ্লো (এমএলএফএফ) ডিজিটাল টোল ব্যবস্থা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা নীতিন গড়করি
ইউইআর-২-এ অবস্থিত মুন্ডকা-বক্করওয়ালা টোল প্লাজায় এই ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন। এর ফলে গাড়িকে আর টোল প্লাজায় থামতে বা গতি কমাতে হবে না। দেশে এটি দ্বিতীয় এমএলএফএফ টোল প্লাজা।
এর আগে গত ২ মে গুজরাটের এনএইচ-৪৮-এর সুরাট-ভরুচ অংশের চোরায়াসি টোল প্লাজায় এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।
সোমবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হর্ষ মালহোত্রা ও অজয় টমটা, পশ্চিম দিল্লির সাংসদ কমলজিৎ সেহরাওয়াত, উত্তর-পশ্চিম দিল্লির সাংসদ যোগেন্দ্র চন্দোলিয়া এবং ভারতীয় জাতীয় সড়ক প্রাধিকরণ (এনএইচএআই)-এর চেয়ারম্যান সন্তোষ কুমার যাদব।
এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা নীতিন গড়করি বলেন, আগে টোল প্লাজায় দীর্ঘ যানজট তৈরি হত এবং যাত্রীদের অনেক সময় এক ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হত। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি জ্বালানির অপচয়ও হত। নতুন ব্যবস্থায় সেই সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, আগে টোল সংগ্রহ থেকে মন্ত্রকের আয় ছিল ৪০-৪৫ হাজার কোটি টাকা। ফাস্ট্যাগ চালুর পর তা বেড়ে ৫৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। তাঁর মতে, এমএলএফএফ ব্যবস্থা চালু হলে টোল সংগ্রহের খরচ ১৫ শতাংশ থেকে কমে ৪ শতাংশে নেমে আসবে। এর ফলে বছরে ৫-৬ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে। পাশাপাশি রাজস্ব ফাঁস বন্ধ হওয়ায় অতিরিক্ত ১২-১৫ হাজার কোটি টাকার আয়ও সম্ভব বলে তিনি জানান।
গড়করি বলেন, দিল্লির আবর্জনার পাহাড় সরিয়ে সেখানকার বর্জ্য রাস্তা নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্লাস্টিক, কাচ ও ধাতু আলাদা করে হাইওয়ে নির্মাণে কাজে লাগানো হচ্ছে। পরালি সমস্যা মোকাবিলাতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, আইসিআইসিআই সংস্থা পরালি থেকে বায়ো-বিটুমিন তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে পেট্রোলিয়াম বিটুমিনের সঙ্গে বায়ো-বিটুমিন, বর্জ্য প্লাস্টিক ও রাবার মিশিয়ে নতুন মানের বিটুমিন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, এই ব্যবস্থায় হাই-রেজোলিউশন ক্যামেরা, অটোমেটিক নম্বর প্লেট রিকগনিশন (এএনপিআর), রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি), রাডার, লাইডার এবং ফাস্ট্যাগভিত্তিক ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে গাড়ি শনাক্ত করা হবে। গাড়ি টোল প্লাজা পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফাস্ট্যাগ অ্যাকাউন্ট থেকে টোল কেটে নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, এই ব্যবস্থার ফলে বছরে প্রায় ২৮৫ কোটি টাকার জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং ৮১ হাজার টন কার্বন নির্গমন কমবে। একই সঙ্গে লাখ লাখ ঘণ্টার যাত্রাসময়ও বাঁচবে।
ডিজিটাল পেমেন্ট ও ইউপিআই ব্যবস্থার মাধ্যমে টোল প্রদান আরও সহজ হবে বলেও জানান গড়করি। নগদ লেনদেন বন্ধ হওয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে। পাশাপাশি ৩০০০ টাকার বার্ষিক পাস চালু করা হয়েছে। এই পাসের মাধ্যমে গড়ে ২০০টি টোল পারাপারে প্রতিটি টোলে খরচ পড়বে মাত্র ১৫ টাকা।
এদিন এনএইচএআই জানিয়েছে, এই ব্যবস্থা পুরোপুরি ডিজিটাল এবং রিয়েল-টাইম মনিটরিং নির্ভর। এর মাধ্যমে ট্র্যাফিক চলাচল, অডিট ট্রেল এবং ডেটা অ্যানালিটিক্স পর্যবেক্ষণ করা যাবে। প্রথম পর্যায়ে দেশের ৯টি রাজ্যের ১৭টি টোল প্লাজায় এই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে হরিয়ানা, রাজস্থান, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক ও অসমের একাধিক টোল প্লাজায় এটি চালু হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে মার্চ ২০২৭-এর মধ্যে ১০৮টিরও বেশি টোল প্লাজাকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া টোল না দেওয়া গাড়ির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনও গাড়ির ফাস্ট্যাগ ব্ল্যাকলিস্টেড, কম ব্যালেন্সযুক্ত বা অবৈধ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্বিগুণ টোলের ই-নোটিস পাঠানো হবে। বকেয়া পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ফাস্ট্যাগ স্থগিত থাকবে।
এনএইচএআই আরও জানিয়েছে, বকেয়া টোল থাকা গাড়ির মালিকানা হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় এনওসি দেওয়া হবে না। বাণিজ্যিক গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট নবীকরণ এবং জাতীয় পারমিট ইস্যুর ক্ষেত্রেও বকেয়া টোল পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য