
হায়দরাবাদ, ১১ মে (হি.স.) : অন্ধ্রপ্রদেশের অল্লুরি সীতারাম রাজু জেলায় ৫ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষিত মহিলা মাওবাদী পোডিয়াম লক্ষ্মী পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। লক্ষ্মী আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র ত্যাগ করে সমাজের মূল স্রোতে ফেরার পথ বেছে নিয়েছে। সোমবার ছত্তিশগড় ও অন্ধ্রপ্রদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। লক্ষ্মী দীর্ঘকাল ধরে মাওবাদী আন্দোলনের দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিল।
পোডিয়াম লক্ষ্মী ছত্তিশগড়ের বিজাপুর জেলার উসুর থানা এলাকার বাসিন্দা। সে ছত্তিশগড়-অন্ধ্রপ্রদেশ সীমান্তে সক্রিয় প্রধান মাওবাদী ক্যাডারদের মধ্যে অন্যতম ছিল। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ত্রি-সীমান্ত এলাকায় মাওবাদী গোষ্ঠীর গেরিলা তৎপরতা এবং রসদ সরবরাহের কাজে সে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। এই অঞ্চলটি বামপন্থী চরমপন্থা প্রভাবিত অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে পরিচিত।
লক্ষ্মী অল্লুরি সীতারাম রাজু জেলার পুলিশ আধিকারিকদের সামনে আত্মসমর্পণ করার সময় তার অস্ত্র ও গোলাবারুদ সমর্পণ করে। মাওবাদী নেটওয়ার্কের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ তাদের একজন সক্রিয় মাঝারি স্তরের ক্যাডার স্বেচ্ছায় সশস্ত্র সংগ্রাম ত্যাগ করল।
সরকারের পুনর্বাসন ও একীকরণ নীতি অনুযায়ী, অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশ তাকে মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, তাকে নির্ধারিত পুনর্বাসন অনুদান প্রদান করা হয়েছে এবং সাধারণ জীবনে ফিরে আসতে তাকে সবরকম সহায়তা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, ৫ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষিত মহিলা ক্যাডারের এই আত্মসমর্পণ নিরাপত্তা বাহিনীর মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে। এটি কেন্দ্র সরকারের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন নীতির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের সংকেত বলে মনে করা হচ্ছে। গত কয়েক বছরে অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড় উভয় রাজ্যেই মাওবাদীদের অস্ত্র ছাড়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ সরকার আত্মসমর্পণকারীদের আর্থিক উৎসাহ এবং সামাজিক সহায়তা প্রদান করছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি