

নয়াদিল্লি, ১১ মে (হি.স.) : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘সাশ্রয়’ ও ‘ত্যাগ’-এর আহ্বানকে কেন্দ্র করে সোমবার রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র আকার নিল। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করেন।
সোমবার রাহুল গান্ধী এক্স-এ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে সোনা না কেনা, বিদেশ সফর এড়ানো, পেট্রোল কম ব্যবহার করা, খাদ্য ও ভোজ্য তেলের খরচ কমানো, মেট্রো ব্যবহার করা এবং ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর মতো পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর দাবি, “এগুলি কোনও উপদেশ নয়, বরং সরকারের ব্যর্থতার প্রমাণ।”
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন , “১২ বছরে দেশকে এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে যে এখন মানুষকে বলে দিতে হচ্ছে কী কিনবে, কী কিনবে না, কোথায় যাবে আর কোথায় যাবে না। প্রতিবারই দায় জনগণের উপর চাপিয়ে সরকার নিজের জবাবদিহি এড়িয়ে যাচ্ছে।” তিনি আরও কটাক্ষ করে বলেন, “দেশ চালানো এখন কম্প্রোমাইসেদ পিএম-এর পক্ষে সম্ভব নয়।”
অন্যদিকে সোমবার মল্লিকার্জুন খাড়গে
সামাজিক মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে বলেন, “যখন ‘গরিবি মে আটা গিলা’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তখন প্রধানমন্ত্রী দেশকে সাশ্রয়ের পাঠ পড়াচ্ছেন।” তিনি অভিযোগ করেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর থেকেই কংগ্রেস অর্থনীতির অবনতি, টাকার দাম পড়ে যাওয়া, পেট্রোল-ডিজেল ও এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি, সার সংকট, খাদ্য সুরক্ষার আশঙ্কা, ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সংকটের মতো বিষয়গুলি নিয়ে সতর্ক করেছিল।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে অভিযোগ করে প্রশ্ন তোলেন, “যখন দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার উপর সংকট ঘনাচ্ছিল, তখন প্রধানমন্ত্রী কেন নির্বাচনী প্রচার ও রোড শো নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন? কেন বলা হচ্ছিল ‘সব চঙ্গা সি’?”
তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, “এখন নির্বাচন শেষ হতেই জনগণকে বলা হচ্ছে—এটা করবেন না, ওটা কিনবেন না, সঞ্চয় করুন, বাড়ি থেকে কাজ করুন। নিজের ১২ বছরের ব্যর্থতার বোঝা দেশের মানুষের উপর চাপিয়ে দেবেন না।”
এ প্রসঙ্গে গোস্বামী তুলসীদাসের ‘পরকে উপদেশ দিতে অনেকে পারদর্শী’ মন্তব্য উদ্ধৃত করে খড়্গে বলেন, অন্যকে উপদেশ দেওয়া সহজ হলেও তা নিজে পালন করা কঠিন।
উল্লেখ্য, রবিবার তেলঙ্গানার হায়দরাবাদে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার প্রসঙ্গ তুলে দেশবাসীর কাছে পেট্রোল-ডিজেলের ব্যবহার কমানো, বিদেশ ভ্রমণ এড়ানো, সোনা কম কেনা এবং দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য