ভোট-পরবর্তী অশান্তির আতঙ্কে কাঁকসা-গলসীর একাধিক পঞ্চায়েতে স্তব্ধ পরিষেবা, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
দুর্গাপুর, ১১ মে (হি.স.) : বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে ভোট-পরবর্তী অশান্তির আশঙ্কায় পূর্ব বর্ধমানের কাঁকসা ও গলসীর একাধিক পঞ্চায়েতে প্রধান, উপপ্রধান ও পঞ্চায়েত সমিতির পদাধ
ভোট পরর্বর্তী হিংসার আতঙ্কে,  কাঁকসা ও গলসীতে অফিস মুখো হচ্ছে না প্রধানরা,  পরিবর্তনের দমকা হাওয়ায় লাটে উঠেছে নাগরিক পরিষেবা, বিপাকে আমজনতা


দুর্গাপুর, ১১ মে (হি.স.) : বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে ভোট-পরবর্তী অশান্তির আশঙ্কায় পূর্ব বর্ধমানের কাঁকসা ও গলসীর একাধিক পঞ্চায়েতে প্রধান, উপপ্রধান ও পঞ্চায়েত সমিতির পদাধিকারীরা অফিসমুখো হচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে একাধিক নাগরিক পরিষেবা। সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

সোমবার স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাঁকসার বিধবিহার, বনকাটি, আমলাজোড়া, কাঁকসা, ত্রিলোকচন্দ্রপুর, মলানদিঘি এবং গলসীর মানকর, বুদবুদ, চাকতেঁতুল-সহ একাধিক পঞ্চায়েতে গত ৪ মে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে প্রধান বা উপপ্রধানদের অনেককেই অফিসে দেখা যাচ্ছে না। এর জেরে আয়, আবাসিক-সহ বিভিন্ন শংসাপত্র পেতে সমস্যায় পড়েছেন ছাত্রছাত্রী, চাকরিপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষ।

অভিযোগ, বহু পরিষেবার জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হয় এবং তার ওটিপি যায় সংশ্লিষ্ট প্রধানের মোবাইলে। সেই ওটিপি ছাড়া শংসাপত্র ইস্যু করা সম্ভব নয়। কিন্তু প্রধানরা অফিসে না আসার পাশাপাশি ওটিপিও শেয়ার করছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পরিষেবা।

কাঁকসার বনকাটি পঞ্চায়েতের প্রধানের স্বামী সৈয়দ কিরণ বলেন, “পঞ্চায়েত অফিসের সামনে এসে কিছু রাজনৈতিক কর্মী হুমকি দিয়ে গিয়েছে। তাই আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার স্ত্রী অফিসে গেলে যদি আচমকা হামলা হয়, তার দায় কে নেবে? নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আতঙ্ক থেকেই যাচ্ছে।”

অন্যদিকে, বিজেপির দুর্গাপুর-বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি রমন শর্মা পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “২০২১ সালের ২ মে-র পর যেভাবে সন্ত্রাস হয়েছিল, এবার সেই ধরনের কোনও বড় অশান্তি হয়নি। বিজেপির কোনও কর্মী কারও অফিস দখল করেনি বা হামলা চালায়নি। তবে কিছু তৃণমূল ও সিপিএম কর্মী নিজেদের বিজেপি পরিচয় দিয়ে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করেছিল, সেটাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস পরিকল্পিতভাবে পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির প্রধান, উপপ্রধান ও সভাপতিদের অফিসে যেতে বাধা দিচ্ছে। সাধারণ মানুষকে পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করে বিজেপিকে বদনাম করার চেষ্টা চলছে। এটা গভীর ষড়যন্ত্র। এভাবে মানুষকে হয়রানি করা হলে প্রধানদের পদত্যাগ করা উচিত।”

রমন শর্মার দাবি, “পঞ্চায়েত ভোটে রিগিং ও ছাপ্পা ভোটের মাধ্যমে তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছিল। বিজেপি কোনও দখলদারির রাজনীতি করে না। মানুষের ভোটে জয়ী হয়েই পঞ্চায়েতে বসবে। বিজেপির নির্বাচিত সদস্যরা পঞ্চায়েতের কাজে নজরদারি করবেন।”

হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা




 

 rajesh pande