
চেন্নাই, ১১ মে (হি.স.) : তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের পর গঠিত ১৭–তম বিধানসভার প্রথম অধিবেশন সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয়। নতুন সরকার গঠনের পর অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে কয়েকজনকে বাদ দিয়ে প্রায় সমস্ত নবনির্বাচিত বিধায়ক শপথ গ্রহণ করেন। অধিবেশন জুড়ে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী শিবিরের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের পাশাপাশি সর্বভারতীয় আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝগম (এআইএডিএমকে)-এর ক্রমবর্ধমান অন্তর্দ্বন্দ্বও বিশেষ আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
তামিলনাড়ু বিধানসভার প্রথম অধিবেশন সোমবার শুরু হয়। অস্থায়ী অধ্যক্ষ এম ভি কারুপ্পাইয়া নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথবাক্য পাঠ করান। তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) প্রধান তথা মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়ের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারকে চলতি মাসের ১৩ তারিখের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে।
এদিন সকালে পেরাম্বুর কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে শপথ নেন মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়। পাশাপাশি মন্ত্রী এন আনন্দ, আধব অর্জুন, ডক্টর কে.জি. অরুণরাজ এবং কে.এ. সেনগোত্তাইয়ানও বিধায়ক হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
ডিএমকে বিধায়ক উদয়নিধি স্টালিন চেপাউক-থিরুভালিকেনি কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে শপথ নেন। অন্যদিকে, এআইএডিএমকে সাধারণ সম্পাদক ই. পলানিস্বামী এডাপ্পাদি কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এছাড়াও ডিএমকে নেতা ও. পনিরসেলভম বোদিনায়াক্কানুর কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে শপথ নেন।
অস্থায়ী অধ্যক্ষ করুপ্পাইয়া অধিবেশনের সূচনায় জানান, যাঁরা কোনও কারণে সোমবার শপথ নিতে পারেননি, তাঁদের মঙ্গলবার সুযোগ দেওয়া হবে। একইসঙ্গে তিনি জানান, মঙ্গলবার বিধানসভার অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দিনের কার্যসূচি মুলতবি ঘোষণা করা হয়।
তামিলনাড়ু বিধানসভার মোট ২৩৪টি আসনের মধ্যে বর্তমানে একটি আসন শূন্য রয়েছে। তিরুচিরাপল্লি পূর্ব কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়ে পরে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় জোসেফ বিজয় বিধায়ক পদ ছাড়েন। ফলে বর্তমানে ২৩৩ জন সদস্য নিয়ে বিধানসভার কার্যক্রম চলছে।
বিধানসভা সচিবালয়ের তরফে সমস্ত বিধায়ককে নির্বাচনী শংসাপত্র সঙ্গে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে মন্ত্রী কীর্তনা নিজের জয়ী হওয়ার শংসাপত্র আনতে ভুলে যাওয়ায় তিনি শপথ নিতে পারেননি। একইভাবে কে.সি. করুপ্পান্নন ভুল নথি নিয়ে আসায় তাঁরও শপথগ্রহণ সম্পূর্ণ হয়নি।
এদিন নতুন মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় ফের নিজের পোশাকের কারণে আলোচনায় উঠে আসেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় তিনি প্রচলিত সাদা শার্ট ও ভেস্তির বদলে কালো রঙের আধুনিক কোট-স্যুট পরে নজর কেড়েছিলেন। সোমবার বিধানসভাতেও একই পোশাকে দেখা যায় তাঁকে।
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই ঐতিহ্যবাহী পোশাকের প্রভাব থাকলেও বিজয়ের এই ‘পাওয়ার ড্রেসিং’ শৈলীকে আধুনিক রাজনৈতিক ভাবমূর্তির প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সারা দিন রাজনৈতিক মহলে তাঁর কালো কোট-স্যুট নিয়ে আলোচনা চলেছে।
অধিবেশনের অন্যতম আকর্ষণীয় মুহূর্ত ছিল মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় এবং বিরোধী দলনেতা উদয়নিধি স্টালিনের মুখোমুখি অবস্থান।
একদিকে তরুণ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিজয়, অন্যদিকে সরকারকে চাপে রাখার দায়িত্বে উদয়নিধি স্টালিন। প্রায় সমবয়সি এই দুই নেতার উপস্থিতি তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব ও ভবিষ্যতের রাজনৈতিক লড়াই নিয়ে জল্পনা আরও বাড়িয়েছে।
অন্যদিকে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই এআইএডিএমকে-কের অভ্যন্তরীণ মতভেদ প্রকাশ্যে এসেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলটি এখন কার্যত বিভাজনের সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে।
সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়ের নেতৃত্বাধীন তামিলগা ভেট্রি কাঝগম (টিভিকে) সরকারকে সমর্থন করা নিয়ে দলটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ৪৭টি আসনে জয়ী এআইএডিএমকে-কের প্রায় ৩৬ জন বিধায়ক এডাপ্পাড়ি কে. পলানিস্বামীর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের একাংশ আস্থা ভোটে বিজয় সরকারকে সমর্থন করার পক্ষেও মত দিয়েছেন বলে সূত্রের দাবি।
বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অভিযোগ, ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে জোট করাই দলের পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ। সেই কারণেই একাংশের বিধায়ক জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট থেকে বেরিয়ে এসে টিভিকে সরকারকে সমর্থন করার কৌশল নিচ্ছেন।
এছাড়াও এআইএডিএমকে বিধায়ক দলের নেতা নির্বাচন নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। ইপিএস শিবির ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর টানাপোড়েনের জেরে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিধায়ক দলনেতা নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি।
যদিও এডাপ্পাড়ি কে. পলানিস্বামীকে বিধায়ক দলনেতা হিসেবে বহাল রাখার দাবিতে ১৭ জন বিধায়ক বিধানসভা সচিব ও অস্থায়ী অধ্যক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামী দিনে এআইএডিএমকে-কের অন্দরের এই নেতৃত্ব-সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য