
নয়াদিল্লি, ১১ মে (হি.স.) : গ্রামীণ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে নতুন দিশা দিতে কেন্দ্র সরকার ‘বিকাশ ভারত - কর্মসংস্থান ও জীবিকা নিশ্চয়তা মিশন (গ্রামীণ)' বা ‘ভিবি-জি রাম জি’ আইন-২০২৫ কার্যকর করার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। নতুন এই আইন আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে দেশের সমস্ত গ্রামীণ এলাকায় কার্যকর হবে। এর ফলে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি আইন (মনরেগা)-২০০৫ বাতিল বলে গণ্য হবে।
সোমবার সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ এলাকায় কর্মপ্রার্থীদের বছরে ১০০ দিনের পরিবর্তে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। এর মধ্যে ১ জুলাই পর্যন্ত মনরেগার সমস্ত নিয়ম কার্যকর থাকবে এবং অসমাপ্ত প্রকল্পগুলি মনরেগার আওতাতেই সম্পূর্ণ করা হবে।
এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় কৃষি, কৃষক কল্যাণ ও গ্রামীণ উন্নয়নমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এক বিবৃতিতে জানান, এই আইন গ্রামীণ দরিদ্র, শ্রমজীবী পরিবার, মহিলা, স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং কৃষকদের জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করবে। একইসঙ্গে আয় সুরক্ষা বাড়বে এবং গ্রামে বড় আকারে টেকসই উন্নয়নের পথ খুলে যাবে।
তিনি বলেন, রাজ্যগুলির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেই নিয়ম তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। তবে পরিবর্তনের সময়ে কোনও শ্রমিক যেন কাজ থেকে বঞ্চিত না হন, তার জন্য সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শিবরাজ সিং চৌহান জানান, অধিকাংশ রাজ্যকে প্রস্তুতির জন্য সর্বাধিক ছয় মাস সময় দেওয়া হবে। যদি কোনও রাজ্য ১ জুলাইয়ের মধ্যে প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করতে না পারে, তবে ওই তারিখের পর থেকে কাজের অর্থ বরাদ্দ ‘বিকশিত ভারত-জি রাম জি’ প্রকল্পের আওতায় করা হবে।
এই প্রকল্পে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে মোদী সরকার বাজেটে ৯৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ করেছে। অন্যদিকে রাজ্য সরকারগুলিও নিজেদের বাজেটে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্মিলিত বরাদ্দের পরিমাণ ১ লক্ষ ৫১ হাজার কোটি টাকারও বেশি বলে জানানো হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, শ্রমিকদের পারিশ্রমিক সরাসরি ডিবিটি ব্যবস্থার মাধ্যমে তাঁদের ব্যাঙ্ক বা ডাকঘরের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। সরকারের লক্ষ্য তিন দিনের মধ্যে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হলেও সর্বাধিক ১৫ দিনের মধ্যে টাকা জমা পড়বে। নির্ধারিত সময়ে টাকা না পৌঁছালে শ্রমিকরা বিলম্বিত অর্থপ্রদানের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবেন। পাশাপাশি কাজ চেয়েও কাজ না পেলে বেকার ভাতাও দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় গ্রামে বড় আকারে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ হবে। জল সংরক্ষণ, গ্রামীণ পরিকাঠামো, রাস্তা, সেতু, কালভার্ট, স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, কৃষিজমি সংক্রান্ত উন্নয়নমূলক কাজ করা যাবে। এছাড়াও স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও কৃষক উৎপাদক সংগঠনের জন্য ওয়ার্কিং শেডের মতো পরিকাঠামো তৈরি করা হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় নদী সংলগ্ন এলাকা বা যেখানে জল জমার প্রবণতা বেশি, এমন অঞ্চলে রিটেনিং ওয়াল নির্মাণও এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তিনি এও জানান, প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের সময়মতো বেতন নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক ব্যয়ের সীমা ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯ শতাংশ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আশাপ্রকাশ করে বলেন, এই প্রকল্প গ্রামীণ শ্রমিকদের জীবনে নতুন সূচনা আনবে এবং ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে উন্নত গ্রাম গঠনে মাইলফলক হয়ে উঠবে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য