পঞ্জাবে বিজেপির একাধিক পার্টি অফিসে হামলা ও ভাঙচুর, তরন তারন, লুধিয়ানা ও মোহালিতে উত্তেজনা
চণ্ডীগড়, ১১ মে (হি.স.): পঞ্জাবের মন্ত্রিসভার সদস্য সঞ্জীব অরোড়াকে ইডি কর্তৃক গ্রেফতারের পর রাজ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রবিবার রাজ্যের একাধিক জেলায় আম আদমি পার্টির কর্মী ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিক
পঞ্জাবে বিজেপির একাধিক পার্টি অফিসে হামলা ও ভাঙচুর, তরন তারন, লুধিয়ানা ও মোহালিতে উত্তেজনা


চণ্ডীগড়, ১১ মে (হি.স.): পঞ্জাবের মন্ত্রিসভার সদস্য সঞ্জীব অরোড়াকে ইডি কর্তৃক গ্রেফতারের পর রাজ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রবিবার রাজ্যের একাধিক জেলায় আম আদমি পার্টির কর্মী ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সীমান্তবর্তী জেলা তরন তারন এবং রাজধানী চণ্ডীগড় সংলগ্ন মোহালি জেলায় বিজেপির পার্টি অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে।

সীমান্ত জেলা তরন তারনে সোমবার বিজেপি কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল হঠাৎ করে লাঠি-ডাণ্ডা নিয়ে অফিসে ঢুকে পড়ে এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তারা অফিসের চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং জোরে জোরে স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় কিছু হামলাকারী পাথরও ছোড়ে বলে অভিযোগ। ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

বিজেপির জেলা সভাপতি হরজিৎ সিং সান্ধু জানান, তিনি একটি কর্মসূচিতে যাচ্ছিলেন সেই সময় হঠাৎ করেই ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি অফিসে ঢুকে পড়ে। তারা লাগাতার স্লোগান দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করে।

বিজেপি নেতাদের দাবি, হামলাকারীরা “পঞ্জাব একতা জিন্দাবাদ” ও “বিজেপি মুর্দাবাদ” লেখা পোস্টারও ছুড়ে ফেলে দেয়। ঘটনার সময় বিজেপি নেতাকর্মীরা এক হামলাকারীকে ধরে ফেলেন, তবে তার সহযোগীরা তাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে সবাই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে সিটি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তদন্ত শুরু করে।

তরন তারনের এসএসপি সুরেন্দ্র লাম্বা জানিয়েছেন, পুরো ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব শিগগিরই অভিযুক্তদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, জিরকপুর এলাকাতেও মুখোশধারী কয়েকজন যুবক হঠাৎ করে বিজেপি অফিসে ঢুকে পড়ে এবং দেওয়ালে কালি ছিটাতে শুরু করে। তারা বিজেপির প্রবীণ নেতা গুরদর্শন সাইনি-র ছবিতেও কালি নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলাকারীরা কয়েক মিনিট ধরে অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে এবং আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। ফুটেজে পাঁচজন মুখোশধারী যুবককে অফিসের দিকে আসতে এবং পরে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে।

বিজেপি নেতারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, পঞ্জাবে আইন-শৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক বিরোধীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে এবং প্রতিদিনই এমন গুণ্ডামির ঘটনা ঘটছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

এদিকে লুধিয়ানাতেও একই দিনে বিজেপি অফিসে অসামাজিক উপাদানরা হাঙ্গামা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande