
নয়াদিল্লি, ১১ মে (হি.স.): কৃষিকে আরও ভালো পুষ্টি, রোগ প্রতিরোধ, কৃষক কল্যাণ এবং বৈজ্ঞানিক নীতি প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে সোমবার ভারতীয় আয়ুর্বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদ (ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ বা আইসিএমআর) এবং ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ ( ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ এগ্রিকালচারাল রিসার্চ বা আইসিএআর) যৌথভাবে “সেহত মিশন” চালু করল।
আইসিএআর প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা এবং কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় কৃষি প্রতিমন্ত্রী ভগীরথ চৌধুরী, আইসিএমআর-এর মহাপরিচালক ডা. রাজীব বহল এবং আইসিএআর-এর মহাপরিচালক ডা. এম. এল. জাটও উপস্থিত ছিলেন।
নাড্ডা বলেন, সেহত মিশন ভারতের নীতি প্রণয়ন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রতীক, যেখানে সরকার এখন শুধু চিকিৎসার উপর নয়, বরং রোগ প্রতিরোধ, সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ এবং ধারাবাহিক স্বাস্থ্যসেবার উপর জোর দিচ্ছে। তাঁর মতে, কৃষি ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন আলাদা পথে কাজ করলেও এখন আইসিএআর ও আইসিএমআর-এর একসঙ্গে কাজ করা বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধানের নতুন সূচনা।
তিনি আরও বলেন, এই মিশন ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন ও ক্যানসারের মতো বাড়তে থাকা অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। স্বল্প খরচে, উচ্চমানের এবং বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত সমাধানই দেশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর হবে। এই দিকেই আইসিএমআর সম্পূর্ণভাবে কাজ করবে।
কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, সেহত মিশনের সূচনা ভারতের জন্য এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, যা কৃষি, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যকে একসঙ্গে যুক্ত করে “স্বাস্থ্যকর ভারত” গঠনের দিশা দেবে। তাঁর মতে, দেশকে এখন শুধু বেশি উৎপাদন নয়, বরং পুষ্টিসমৃদ্ধ উৎপাদনের দিকে এগোতে হবে।
তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে শুধু “আমরা কী খাব” নয়, বরং “আমরা কী চাষ করব”—এই বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার। এই মিশন ফসল থেকে থালা এবং থালা থেকে স্বাস্থ্যের মধ্যে বৈজ্ঞানিক সংযোগ তৈরি করবে।
চৌহান আরও বলেন, বায়ো-ফর্টিফাইড ফসল, জিঙ্ক ও আয়রন সমৃদ্ধ জাত, এবং কোদো, কুটকি, জোয়ার, রাগি ও বাজরার মতো ঐতিহ্যবাহী শস্যকে উৎসাহ দেওয়া হবে। তাঁর মতে, সমন্বিত কৃষি শুধু কৃষকের আয় বাড়ায় না, পরিবারের পুষ্টিও নিশ্চিত করে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য