
নয়াদিল্লি, ১২ মে (হি.স.): মোদী সরকার ‘সাইবার সুরক্ষিত ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিরন্তর কাজ করে চলেছে এবং সাইবার অপরাধ দমনে ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’ একটি বড় বাধা। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এমনটাই জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক নতুন ব্যবস্থা সাইবার জালিয়াতি মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সাইবার আর্থিক জালিয়াতি এবং ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় অবৈধ অ্যাকাউন্ট বা ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’ বন্ধ করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ ‘ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টার’ এবং ‘রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ইনোভেশন হাব’-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (মউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
অমিত শাহ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ লিখেছেন, “মোদী সরকার সাইবার সুরক্ষিত ভারতের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করছে। মিউল অ্যাকাউন্টগুলি সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের পথে বড় অন্তরায়। এদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আই৪সি, আরবিআইএইচ-এর সঙ্গে একটি মৌ স্বাক্ষর করেছে, যার মাধ্যমে সাইবার জালিয়াতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শক্তিকে কাজে লাগানো হবে।”
তিনি আরও জানান, আই৪সি-র ‘সাসপেক্ট রেজিস্ট্রি’ ডেটাকে এআই-ভিত্তিক জালিয়াতি শনাক্তকরণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে গোপন মিউল অ্যাকাউন্টগুলি দ্রুত চিহ্নিত করা এবং সেগুলি বন্ধ করা সম্ভব হবে। এই ব্যবস্থা নাগরিকদের জন্য সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে ‘নেক্সট জেনারেশন শিল্ড’ বা পরবর্তী প্রজন্মের সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করবে।
এই চুক্তির অধীনে, আই৪সি এবং আরবিআইএইচ জালিয়াতির ঝুঁকি সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান, বিশ্লেষণাত্মক সহযোগিতা এবং সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে সাইবার আর্থিক অপরাধ মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করবে।
এই সমঝোতা স্মারকে আই৪সি-র পক্ষ থেকে আইজি (প্রশাসন) রূপা এম এবং আরবিআইএইচ-এর সিইও সাহিল কিন্নি স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ডেপুটি গভর্নর রোহিত জৈন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিশেষ সচিব আনন্দ স্বরূপ, যুগ্ম সচিব রাকেশ রাঠি এবং আই৪সি-র সিইও রাজেশ কুমারসহ বহু উচ্চপদস্থ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন।
আধিকারিকদের মতে, আই৪সি-র ‘সাসপেক্ট রেজিস্ট্রি’ থেকে প্রাপ্ত তথ্য ব্যবহার করে আরবিআইএইচ তাদের এআই-ভিত্তিক ফ্রড রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট মডেল এবং ‘মিউলহান্টার ডট এআই’ -এর মতো সিস্টেমগুলিকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি