
শেওপুর, ১২ মে (হি.স.) : মধ্যপ্রদেশের শেওপুর জেলার কুনো জাতীয় অভয়ারণ্যে স্ত্রী চিতা কেজিপি-১২-র সদ্যোজাত চার শাবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে মনিটরিং টিম নিয়মিত পর্যবেক্ষণে গিয়ে ডেন সাইটের কাছে চারটি শাবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে। বনদফতর এক প্রেস নোটে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
বনদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১১ এপ্রিল ২০২৬ চারটি শাবকের জন্ম হয়েছিল। সোমবার সন্ধ্যায় শেষবার তাদের জীবিত দেখা গিয়েছিল। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ টহলদারি দল এলাকায় পৌঁছে শাবকদের মৃত অবস্থায় দেখতে পায়।
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, কোনও বন্য প্রাণীর আক্রমণেই শাবকদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
ঘটনার পরেই বনদফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এলাকা সিল করে দেওয়া হয়েছে এবং নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তবে স্বস্তির খবর, স্ত্রী চিতা কেজিপি-১২ বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছে। বনকর্মীরা তার গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখছেন।
বনদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনার পর দেশে মোট চিতার সংখ্যা কমে দাঁড়াল ৫৩। এর মধ্যে ৫০টি কুনো জাতীয় অভয়ারণ্যে এবং তিনটি গান্ধী সাগর অভয়ারণ্যে রয়েছে। মোট ৩৩টি চিতা ভারতে জন্মেছে।
উল্লেখ্য, আফ্রিকা থেকে আনা চিতাদের পুনর্বাসনের জন্য কুনো ন্যাশনাল পার্ককে বেছে নেওয়া হয়েছিল। দেশের অন্যতম উচ্চাভিলাষী বন্যপ্রাণ প্রকল্প হিসেবে এই চিতা প্রকল্পকে দেখা হয়। তাই সদ্যোজাত চার শাবকের মৃত্যু ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য