
ভোপাল, ১২ মে (হি.স.) : মধ্যপ্রদেশ ধীরে ধীরে দেশের “নেক্সট জেন টেকনোলজি হাব” হিসেবে নিজের নতুন পরিচয় গড়ে তুলছে বলে মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী ড. মোহন যাদব। তাঁর দাবি, রাজ্য এখন শুধু একটি আইটি রাজ্য নয়, বরং প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও দক্ষতাভিত্তিক উন্নয়নের এক নতুন মডেলে দ্রুত এগোচ্ছে। মধ্যপ্রদেশ ভবিষ্যতে দেশের ডিজিটাল ও প্রযুক্তি অর্থনীতির অন্যতম প্রধান গ্রোথ ইঞ্জিন হিসেবে কাজ করবে।
মুখ্যমন্ত্রী মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, রাজ্য সরকার জিসিসি, এআই, সেমিকন্ডাক্টর, ড্রোন, স্পেসটেক এবং এভিজিসি-এক্সআর-এর মতো ভবিষ্যতমুখী খাতে নীতি গ্রহণ করেছে, যা মধ্যপ্রদেশকে দেশের নতুন প্রযুক্তিগত শক্তি হিসেবে গড়ে তুলছে। এই নীতিগুলির মাধ্যমে একদিকে যেমন বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান, উদ্ভাবন ও দক্ষতা উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রদেশ দেশেই প্রথম রাজ্য, যারা “গ্লোবাল ক্যাপেবিলিটি সেন্টার (জিসিসি) পলিসি-২০২৫” চালু করেছে। এই নীতির মাধ্যমে বহুজাতিক সংস্থাগুলিকে প্রযুক্তি, গবেষণা, অ্যানালিটিক্স এবং শেয়ার্ড সার্ভিস সেন্টার স্থাপনে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। সরকার পুঁজি সহায়তা, জমি ছাড়, ভাড়া সহায়তা এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের বেতন অনুদান সহ একাধিক সুবিধা দিচ্ছে। ইন্দোর, ভোপাল, গোয়ালিয়র ও জব্বলপুরে উন্নত আইটি অবকাঠামো তৈরি হচ্ছে, যেখানে ইন্দোর সুপার করিডোরে গড়ে ওঠা আধুনিক আইটি পার্ক হাজার হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।
তিনি জানান, “মধ্যপ্রদেশ সেমিকন্ডাক্টর পলিসি-২০২৫” এর মাধ্যমে চিপ ডিজাইন, ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং, গবেষণা ও স্টার্টআপকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এই নীতিতে বিনিয়োগ সহায়তা, জমি ছাড়, স্ট্যাম্প ডিউটি রিবেট ও বিদ্যুৎ শুল্ক ছাড়ের সুবিধা রয়েছে। ভোপাল ও গোয়ালিয়রে পিসিবি ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট স্থাপনের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভিএলএসআই চিপ ডিজাইন ও ইলেকট্রনিক্স কোর্স চালু করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য “স্পেসটেক পলিসি-২০২৬” চালুর মাধ্যমে মহাকাশ প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও এগোচ্ছে। এই নীতির মাধ্যমে স্যাটেলাইট ম্যানুফ্যাকচারিং, জিও-স্পেশাল অ্যানালিটিক্স, স্পেস স্টার্টআপ ও গবেষণাকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এখানে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত পুঁজি সহায়তা, গবেষণা অনুদান ও স্টার্টআপ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ভোপালে স্পেসটেক ক্লাস্টার গড়ে তোলার জন্য কেন্দ্রীয় সংস্থা “ ইন-স্পেস ”-এর সঙ্গে কাজ চলছে। আইআইটি ইন্দোর, আইআইএসইআর ভোপাল, আরআরক্যাট ও এমপিসিএসটি-এর সহযোগিতায় স্পেস ইনোভেশন ইকোসিস্টেম শক্তিশালী হচ্ছে।
তিনি জানান, “ড্রোন প্রোমোশন অ্যান্ড ইউসেজ পলিসি-২০২৫” এর মাধ্যমে কৃষি, ভূমি রেকর্ড, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক, খনন ও বন ব্যবস্থাপনায় ড্রোন ব্যবহারের বিস্তার ঘটছে। “মুখ্যমন্ত্রী শিখো-কমানো যোজনা”র মাধ্যমে যুবকদের ড্রোন প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
রাজ্যে অ্যানিমেশন, গেমিং, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস ও এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি খাতেও উন্নয়ন হচ্ছে। এভিজিসি ল্যাব, সেন্টার অফ এক্সেলেন্স এবং ২০ একর মিডিয়া পার্ক তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এআই-ভিত্তিক গবর্নেন্স মডেলও দ্রুত বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার মাধ্যমে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও গতি বাড়বে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৩৫টিরও বেশি বড় প্রযুক্তি বিনিয়োগ প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যার মোট মূল্য ১৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। মধ্যপ্রদেশ স্টেট ইলেকট্রনিক্স ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনকে (এমপিএসইডিসি) নোডাল এজেন্সি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, রাজ্য সরকার প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও দক্ষতাভিত্তিক উন্নয়নের মাধ্যমে মধ্যপ্রদেশকে দেশের অন্যতম শক্তিশালী টেক হাবে পরিণত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য