রাজবাড়ির অন্দরমহলে ঐতিহ্যের শেষ মঙ্গলবার, মঙ্গলচণ্ডী পূজায় ভক্তদের ঢল
আগরতলা, ১২ মে (হি.স.) : বৈশাখ মাসের শেষ মঙ্গলবারে আগরতলার ঐতিহ্যবাহী উজ্জয়ন্ত প্রাসাদের অন্দরমহলে অবস্থিত মঙ্গলচণ্ডী মন্দিরে অনুষ্ঠিত হল শেষ মঙ্গলচণ্ডী পূজা। প্রাচীন এই পূজাকে ঘিরে মঙ্গলবার সকাল থেকেই মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য
রাজবাড়িতে মঙ্গলচন্ডী পূজা


আগরতলা, ১২ মে (হি.স.) : বৈশাখ মাসের শেষ মঙ্গলবারে আগরতলার ঐতিহ্যবাহী উজ্জয়ন্ত প্রাসাদের অন্দরমহলে অবস্থিত মঙ্গলচণ্ডী মন্দিরে অনুষ্ঠিত হল শেষ মঙ্গলচণ্ডী পূজা। প্রাচীন এই পূজাকে ঘিরে মঙ্গলবার সকাল থেকেই মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, পূজা-অর্চনা ও প্রার্থনায় অংশ নিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পূর্ণার্থী উপস্থিত হন।

সকালে মন্দিরের দরজা খোলার পর থেকেই শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। পুরোহিতদের মন্ত্রোচ্চারণ, ধূপ-ধুনোর সুগন্ধ এবং ঘণ্টা-শঙ্খধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে রাজবাড়ির অন্দরমহল। ভক্তরা দেবীর চরণে ফুল, ফল, মিষ্টি ও নানা উপাচার নিবেদন করে পরিবারের সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করেন। অনেকেই মানত পূরণে বিশেষ পূজা দেন।

ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, ত্রিপুরার রাজপরিবারের মহারানি তুলসীবতী দেবী স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর এই মঙ্গলচণ্ডীর ঘট প্রতিষ্ঠা করেন। সেই সময় থেকেই রাজবাড়ির অন্দরমহলে প্রতি বৈশাখ মাসের মঙ্গলবারগুলোতে নিয়মিতভাবে মঙ্গলচণ্ডী পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। শতাব্দীপ্রাচীন এই ধর্মীয় আচার আজও রাজ্যের মানুষের কাছে গভীর আস্থা ও ভক্তির প্রতীক হয়ে রয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, মঙ্গলচণ্ডী দেবীর কাছে প্রার্থনা করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়। এই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করেই প্রতি বছর বৈশাখ মাসের প্রতিটি মঙ্গলবারে মন্দিরে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে। বিশেষ করে শেষ মঙ্গলবারের পূজাকে ঘিরে উৎসাহ ও ভক্তির আবহ থাকে চোখে পড়ার মতো।

মন্দিরে আগত ভক্তদের সুবিধার্থে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে ভক্তরা শান্তিপূর্ণভাবে পূজা দেন এবং প্রসাদ গ্রহণ করেন।

রাজপরিবারের ঐতিহ্য, লোকবিশ্বাস এবং ধর্মীয় আবেগের এক অনন্য সংমিশ্রণ এই মঙ্গলচণ্ডী পূজা। বৈশাখের শেষ মঙ্গলবারে অনুষ্ঠিত এই পূজাকে কেন্দ্র করে আগরতলার ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ি প্রাঙ্গণ এক পুণ্যময় পরিবেশে ভরে ওঠে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande