

গুয়াহাটি, ১২ মে (হি.স.) : আজ ১২ মে ২০২৬, টানা দ্বিতীয় মেয়াদে অসমের ষোড়শ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা। ২০২১-এর ১০ মে প্রথমবার এই পদে শপথ গ্রহণ করেছিলেন তিনি।
অসমের ষোড়শ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে রাজ্যপাল লক্ষণ প্রসাদ আচার্য ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মাকে পদ ও গোপনীয়তার শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন। অসমবাসীর বিশ্বাস, আস্থা ও আশীর্বাদকে শিরোধার্য করে দ্বিতীয় মেয়াদের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন তিনি। অসমে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের তৃতীয় মেয়াদের দ্বিতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন হিমন্তবিশ্ব শর্মা।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, জালুকবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা টানা ছয়বার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০১ সাল থেকে তিনি এই কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। ২০০১, ২০০৬ এবং ২০১১ সালে তিনি কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে জালুকবাড়ি থেকে জয়ী হন। ২০১৫ সালে কংগ্রেসের সঙ্গ ত্যাগ করে যোগ দেন বিজেপিতে। এর পর ২০১৬, ২০২১ এবং সদ্যসমাপ্ত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপির প্রার্থী হিসেবে এই আসন থেকে জয়ী হন। ২০০১ সাল থেকে তাঁর বিজয়যাত্রা অব্যাহত রয়েছে।
১৯৯৬ সালে জালুকবাড়ি বিধানসভা আসনে অসম গণ পরিষদ (অগপ)-এর নেতা ভৃগু কুমার ফুকনের কাছে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন। তবে ২০০১ সালে তিনি ভৃগু কুমার ফুকনকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো বিধায়ক নির্বাচিত হন। এর পর আর তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০০৬ সালে পুনরায় বিধায়ক নির্বাচিত হন। ২০১১ সালে প্রায় ৭৮ হাজার ভোটে জয়ী হয়ে টানা তৃতীয়বারের বিধায়ক হন হিমন্তবিশ্ব শর্মা।
শিক্ষাজীবনের কথা বলতে গেলে, ১৯৮৫ সালে কামরূপ অ্যাকাডেমি থেকে মাধ্যমিক পাশ করার পর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য কটন কলেজে ভর্তি হন। ১৯৯১-৯২ সালে তিনি কটন কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৯০ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক এবং ১৯৯২ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরে গৌহাটি সরকারি আইন মহাবিদ্যালয় থেকে আইনশাস্ত্রে স্নাতক এবং গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি গৌহাটি হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
২০০২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ সরকারের আমলে তিনি কৃষি, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন, অর্থ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অসম চুক্তি বাস্তবায়ন সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরের (রাজ্যমন্ত্রী ও ক্যাবিনেট উভয় পর্যায়ে) দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালে তাঁকে স্বাস্থ্য দফতরের মন্ত্রী এবং ২০১১ সালে শিক্ষা দফতরের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের সঙ্গে রাজনৈতিক মতভেদের জেরে ২০১৪ সালের ২১ জুলাই ২০১৪ সালে তিনি সমস্ত সরকারি পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫ সালে বিধায়ক পদ থেকেও ইস্তফা দেন। ২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট নয়াদিল্লিতে অমিত শাহের বাসভবনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন।
এর পর ২০১৬ সালের মে মাসে তিনি চতুর্থবার জালুকবাড়ি থেকে জয়ী হন। ওই সালের ২৪ মে তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়ালের মন্ত্রিসভায় ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ২০২১ সালের ১০ মে সর্বানন্দ সনোয়ালের পর রাজ্যপাল অধ্যাপক জগদীশ মুখি তাঁকে অসমের পঞ্চদশ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করে শপথবাক্য পাঠ করান।
আর আজ ১২ মে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় ভূতল পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গডকড়ি, চিরাগ পাশোয়ান, জ্যোতিরাদিত্য সিন্দিয়া, শিবরাজসিং চৌহান, কিরেন রিজিজু, সর্বানন্দ সনোয়াল সহ আরও কয়েকজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, পঞ্জাবের রাজ্যপাল গুলাবচাঁদ কাটারিয়া (অসমের প্রাক্তন রাজ্যপাল), বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-শাসিত রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রী, উপ-মুখ্যমন্ত্রী যথাক্রমে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ, মহারাষ্ট্রের দেবেন্দ্র ফড়নবিশ, দিল্লির রেখা গুপ্তা, মধ্যপ্রদেশের ড. মোহন যাদব, ওড়িশার মোহন চরণ মাঝি, উত্তরাখণ্ডের পুষ্কর সিং ধামি, হরিয়ানার নয়াব সিং সাইনি, বিহারের সম্রাট চৌধুরী, অন্ধ্রপ্রদেশের চন্দ্রবাবু নাইডু, মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে, ত্রিপুরার ডা. মানিক সাহা, অরুণাচল প্রদেশের পেমা খাণ্ডু, মেঘালয়ের কনরাড কে সাংমা, মণিপুরের ইউমনাম খেমচাঁদ সিং, সিকিমের প্রেম সিং তামাং, এনডিএভুক্ত বডোল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট (বিপিএফ)-প্রধান হাগ্রামা মহিলারি প্রমুখ, বেশ কয়েকজন শিল্পপতি, সিঙ্গাপুর, ভুটান সহ কয়েকজন বিদেশি প্রতিনিধি, ১৭ জন সত্রাধিকার (অসমের বৈষ্ণব পরম্পরার আধ্যাত্মিক গুরু), অসম প্রদেশ বিজেপি সভাপতি দিলীপ শইকিয়া, দলের জাতীয় ও রাজ্যস্তরের শীর্ষ নেতা ও রাজ্যের সব জেলা ও বুথস্তরের কার্যকর্তা, আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিগণ এবং কয়েক লক্ষ বিজেপি এবং শরিক দলের কর্মী-সমর্থকবৃন্দের উপস্থিতিতে টানা দ্বিতীয়বার অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন।
পারিবারিক জীবন : ১৯৬৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অসমের যোরহাটে জন্মগ্রহণ করেন হিমন্তবিশ্ব শর্মা। তিনি জনপ্রিয় অসমিয়া কবি ও ঔপন্যাসিক কৈলাশনাথ শর্মা (প্রয়াত) এবং অসমিয়া সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী মৃণালিনী দেবীর সন্তান। ছয় ভাইবোন সহ হিমন্তবিশ্বের আদি নিবাস নলবাড়ি জেলার লতুমায়। পরে তাঁরা গুয়াহাটির গান্ধীবস্তি এলাকার উলুবাড়িতে চলে আসেন। ২০০১ সালে রিনিকি ভুঁইয়া শর্মাকে বিয়ে করেন তিনি। স্ত্রী, এক পুত্র নন্দিল এবং এক কন্যা সুকন্যাকে নিয়ে তাঁর পরিবার।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস