দুই মেধাবীর জয়গাথা- অভাবের ঘর থেকে উচ্চমাধ্যমিকে উজ্জ্বল সাফল্য
কৈলাসহর (ত্রিপুরা), ১২ মে (হি.স.) : সংসারে অভাব আছে, অনিশ্চয়তা আছে, আছে প্রতিদিনের সংগ্রাম। কিন্তু সেই অভাব কখনও হার মানাতে পারেনি তাঁদের স্বপ্নকে। আর সেই স্বপ্নই আজ বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে লিখল অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল অধ্যায়। কৈলাসহরের রামকমল উচ্চম
কৃতী দুই ছাত্রী


কৈলাসহর (ত্রিপুরা), ১২ মে (হি.স.) : সংসারে অভাব আছে, অনিশ্চয়তা আছে, আছে প্রতিদিনের সংগ্রাম। কিন্তু সেই অভাব কখনও হার মানাতে পারেনি তাঁদের স্বপ্নকে। আর সেই স্বপ্নই আজ বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে লিখল অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল অধ্যায়। কৈলাসহরের রামকমল উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই কৃতী ছাত্রী দিয়া দেবনাথ ও স্নেহা দে এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অসাধারণ ফল করে প্রমাণ করে দিল— মেধা আর পরিশ্রম থাকলে কোনও বাধাই শেষ কথা নয়।

চন্ডীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের গৌরনগর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক পরিবারের মেয়ে দিয়া দেবনাথ পেয়েছে ৪৮৮ নম্বর। শতাংশের হিসেবে তাঁর সাফল্য ৯৭.৮০। সংসারে আর্থিক টানাপোড়েন এতটাই ছিল যে, গৃহশিক্ষক রাখার সামর্থ্যও ছিল না পরিবারের। তবুও বইকে সঙ্গী করে, শিক্ষকদের পরামর্শকে পাথেয় করে এবং নিজের অক্লান্ত অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সে ছুঁয়ে ফেলেছে সাফল্যের শিখর। ভবিষ্যতে শিক্ষক হয়ে সমাজের জন্য কাজ করার স্বপ্ন দেখছে দিয়া।

অন্যদিকে কামরাঙ্গাবাড়ি ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্রী স্নেহা দে অর্জন করেছে ৪৭৯ নম্বর, অর্থাৎ ৯৫.৮০ শতাংশ। তাঁর বাবা সুব্রত দে একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। কিছুদিন আগেই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন তিনি। ফলে সংসারের আর্থিক ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যায়। কিন্তু বাবার অসহায় অবস্থাই যেন স্নেহার মনের ভিত আরও শক্ত করে তোলে। নিজের চেষ্টায়, আত্মবিশ্বাসে এবং নিরলস পরিশ্রমে সে অর্জন করেছে ঈর্ষণীয় এই সাফল্য। ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে জীবনে বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখছে স্নেহা।

দুই ছাত্রীর বিষয় ছিল বাংলা, ইংরেজি, সংস্কৃত, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইতিহাস ও শিক্ষা বিষয়। সাফল্যের আনন্দে আজ পরিবার, শিক্ষক এবং প্রতিবেশীদের চোখে গর্বের জল। কিন্তু এই আনন্দের মাঝেও একটাই দুশ্চিন্তা— উচ্চশিক্ষার খরচ। আর্থিক অনটন তাঁদের স্বপ্নপথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেই আশঙ্কা পরিবারের।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা পাঞ্চালী ভট্টাচার্য্য আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “দিয়া ও স্নেহা দু'জনেই অসাধারণ মেধাবী। অভাবকে কখনও ওরা অজুহাত হতে দেয়নি। ওদের এই সাফল্য শুধু বিদ্যালয়ের নয়, সমগ্র সমাজের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা।”

আজকের দিনে যখন সুযোগের অভাবে বহু প্রতিভা মাঝপথে হারিয়ে যায়, তখন দিয়া ও স্নেহার এই লড়াই এবং জয় আমাদের নতুন করে আশাবাদী করে তোলে। তাঁদের গল্প বলে— স্বপ্ন যদি সত্যি হয়, তবে অভাবও একদিন মাথা নত করতে বাধ্য হয়।

কৈলাসহরের এই দুই কন্যা আজ শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করেনি, তাঁরা জিতে নিয়েছে অসংখ্য মানুষের হৃদয়। তাঁদের সাফল্যের আলো আগামী দিনের বহু সংগ্রামী ছাত্রছাত্রীর পথ দেখাবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande