
চেন্নাই, ১২ মে (হি. স.) : তামিলনাড়ুর তিরুপত্তুর কেন্দ্রের টিভিকে বিধায়ক শ্রীনিবাস সেতুপতিকে বিধানসভায় আস্থা ভোট, অনাস্থা প্রস্তাব ও অন্যান্য ভোটাভুটিতে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিল মাদ্রাজ হাই কোর্ট। মঙ্গলবার আদালতের তরফে এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত তামিলনাড়ুর ১৭তম বিধানসভা নির্বাচনে শিবগঙ্গা জেলার তিরুপত্তুর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন ডিএমকের প্রাক্তন মন্ত্রী পেরিয়াকারুপ্পন। তিনি মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে টিভিকে প্রার্থী শ্রীনিবাস সেতুপতির কাছে পরাজিত হন। পেরিয়াকারুপ্পনের প্রাপ্ত ভোট ছিল ৮৩ হাজার ৩৭৪।
এরপর তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানান যে, তিরুপত্তুর বিধানসভা কেন্দ্রের একটি ডাক ভোট ভুলবশত ভেল্লোরের কাছে অবস্থিত অন্য তিরুপত্তুর কেন্দ্র, অর্থাৎ ৫০ নম্বর আসনে পাঠানো হয়েছে। তাঁর দাবি ছিল, ওই ভোটটি শিবগঙ্গার ১৮৫ নম্বর তিরুপত্তুর কেন্দ্রে গণনা করা উচিত ছিল।
নির্বাচন কমিশন কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় পেরিয়াকারুপ্পন মাদ্রাজ হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেন। তিনি ডাক ভোটগুলি সংরক্ষণ, গণনার ভিডিও ফুটেজ সুরক্ষিত রাখা এবং মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিজয়ী প্রার্থীকে বিধায়ক হিসেবে কাজ করা থেকে বিরত রাখার আবেদন জানান।
মামলার শুনানিতে পেরিয়াকারুপ্পনের আইনজীবী অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন ডাক ভোট বদলের বিষয়ে স্পষ্ট জবাব দেয়নি এবং কমিশনের গাফিলতির কারণেই তাঁর মক্কেল জয় থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের তরফে আদালতে জানানো হয়, ডাক ভোট বদলের কোনও অভিযোগ কমিশনের কাছে আসেনি। পাশাপাশি, ভোটগণনা শুরু হওয়ার পর পৌঁছনো ডাক ভোট নিয়ম অনুযায়ী গণনা করা যায় না বলেও জানানো হয়।
এরপর বিচারপতি এল ভিক্টোরিয়া গৌরি ও এন সেথিল কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করে। আদালত জানায়, পেরিয়াকারুপ্পনের অভিযোগে যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। তাই পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত শ্রীনিবাস সেতুপতি বিধানসভায় কোনও ধরনের ভোটাভুটিতে অংশ নিতে পারবেন না।
তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, শ্রীনিবাস সেতুপতির জয় বাতিল করা হয়নি। একইসঙ্গে এই নির্দেশকে তাঁর জয়ের বৈধ স্বীকৃতি হিসেবেও গণ্য করা যাবে না।
আদালত নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে, ভোটগণনা সংক্রান্ত সমস্ত নথি, ইভিএম রেকর্ড, ডাক ভোট, বাতিল ডাক ভোট এবং সংশ্লিষ্ট খাম সংরক্ষণ করতে হবে। এছাড়াও, ৫০ নম্বর কেন্দ্র থেকে যদি ১৮৫ নম্বর কেন্দ্রের কোনও ডাক ভোট এসে থাকে, তবে সেটিও না খুলে সুরক্ষিত রাখতে হবে।
আদালত আরও জানিয়েছে, নথি সংরক্ষণের এই নির্দেশের ফলে ইতিমধ্যেই ঘোষিত নির্বাচনী ফলাফলের উপর কোনও প্রভাব পড়বে না এবং এটিকে পুনর্গণনার নির্দেশ হিসেবেও ধরা যাবে না।
একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তিরুপত্তুর কেন্দ্রে মোট কতগুলি ডাক ভোট ছিল, কতগুলি গণনা হয়েছে এবং কতগুলি অন্য কেন্দ্রে চলে গিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ১৯ জুন।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য